Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এ.বি.সি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টারের ৫ম বার্ষিকী উদযাপন

এ.বি.সি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টার কর্মজীবী মায়েদের কাছে এক আস্থার নাম বলে উল্লেখ করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সোনিয়া আকরাম

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫৮ পিএম

প্রতিষ্ঠার ৫ম বার্ষিকী উদযাপন করেছে এ.বি.সি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টার। গত শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি  হোটেলে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার নাহিদ পারভিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান স্ট্যানডার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (এসইস) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া উদ্দিন ইমরান এবং অধ্যক্ষ লরি এ. ওয়ালস। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির সেবা গ্রহীতা অভিভাবক ও তাদের সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন। 

এ.বি.সি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সোনিয়া আকরাম তার পাঁচ বছরের এই যাত্রার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম চ্যালেন্জ এবং কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য তুলে ধরেন।

তিনি এ.বি.সি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টারের সেবা গ্রহীতাদের গভীর আস্থা, অকুণ্ঠ সমর্থন ও অকৃত্রিম ভালবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ.বি.সি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টার কর্মজীবী মায়েদের কাছে এক আস্থার নাম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিন প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়। এই ওয়েবসাইটের প্যারেন্টস পোর্টাল থেকে ভবিষ্যতে বাবা-মা কীভাবে তাদের সন্তানের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং তাদের বয়স ভিত্তিক দক্ষতা ও বিকাশের উন্নয়ন সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়ছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতকরণে চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট বিশেষজ্ঞরা কাজ করে যাচ্ছেন। এদেরে মধ্যে রয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ফারজানা ফাতেমা (রুমী), ডা. আইরিন বিনতে আজাদ এবং সিনিয়র স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট খুশবু আলম ক্যানি। 

অনুষ্ঠানে তারা সমাজে ডে-কেয়ার সেন্টারের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মনোবিজ্ঞানী ফারজানা ফাতেমা (রুমী) তার বক্তব্যে বলেন, “শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠে ০-৫ বছরের মাঝেই। তাই এই সময়ে সন্তানকে বুঝতে দিতে হবে আপনি তাকে ভালোবাসেন, তার পাশে সবসময় আছেন, সে একা নয়। আবার চাওয়ামাত্র সব পেয়ে যাবে,  না পেলে অস্থির হবে আর আপনি সবকিছুই মেনে নেবেন এই চর্চা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিখি কীভাবে সব বয়সি মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায় কিন্তু ডে-কেয়ার এমন এক জায়গা যেখানে শিশু তার আর্লি স্টেজেই শিখে যায় বিভিন্ন বয়সি শিশুদের সঙ্গে কিভাবে বন্ধুত্ব তৈরি করতে হয়, খেলনা শেয়ার করতে হয়, ধৈর্য্য রাখতে হয়। তদুপরি একটি নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে আসার চর্চা শুরু হয় যা থেকে শিশু শেখে সামাজিকতা। যা অবশ্যই শিশুর ব্যক্তিত্ত্ব গঠনে সহায়তা করে।”

শিশুদের অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখা, নিজেকে ভালোবাসতে শেখার ক্ষেত্রে এবিসি ডে-কেয়ার একটি নিরাপদ জায়গা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের এইচএমও ডা. আইরিন বিনতে আজাদ বলেন, "শিশুর মানসিক ও শারিরীক বিকাশ সম্পর্কে ডে-কেয়ারের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রশিক্ষিত । যার ফলে মা-বাবার দৃষ্টির অগোচরে থাকলেও ডে-কেয়ারে শিশুদের বিকাশজনিত জটিলতাগুলো আগেই ধরা পরে। সবধরনের শিশুরা একসঙ্গে থাকার কারণে অনেকাংশেই জটিলতাগুলো নিয়ে কাজ করা যায় এবং অভিভাবকরা আর কী করতে পারেন সে ব্যাপারে গাইড করা যায়।"

স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট খুশবু আলম ক্যানি বলেন, "শিশুর ভাষার বিকাশের জন্য পরিবেশ তৈরি করে দিতে হয়। শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা তাদের যোগাযোগের বিভিন্ন কৌশল উন্নতিতে ব্যহত হচ্ছে। তাদের শব্দ ভান্ডার সংকুচিত হচ্ছে। ডে-কেয়ার একজন শিশুর শেখার সুযোগ এবং পরিবেশ দুটোই তৈরি করে দেয়। সেই সঙ্গে একজন শিশুর সামাজিক যোগাযোগের বিকাশ জনিত জটিলতা বাসার তুলনায় ডে-কেয়ারে বেশি চোখে পড়ে। এতে করে বাবা-মায়েরা খুব তাড়াতাড়ি  শিশুর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।"

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রি-স্কুল গ্র্যাযুয়েশন সেরেমনিতে শিশুদের সনদ প্রদান এবং এই ডে-কেয়ারের এডুকেটরদের বিশেষ অবদানের জন্য সনদ প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে শিশুদের এবং এডুকেটরদের নিয়ে দুইটি আলাদা অডিও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের উদ্দেশ্যে একটি বাৎসরিক ম্যাগাজিন প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, এ.বি.সি আর্লি লার্নিং ডে-কেয়ার সেন্টার ২০১৭ সালের ৫ই যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ডার্ড পাঠ্যক্রম (কারিকুলাম) অনুসরণ করে আর্লি চাইল্ডহুড ডেভলপমেন্ট (ই.সি.ডি) বিষয়ক পরিষেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

About

Popular Links