Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উত্তপ্ত মিয়ানমার সীমান্ত: উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে পরীক্ষা দিলো ৫১৬ শিক্ষার্থী

শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে দুটি বাসের ব্যবস্থা করে উখিয়া থানা পুলিশ। সকালে তাদেরকে ওই বাসে করে কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৭ পিএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪১৬ জন পরীক্ষার্থী। শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে এসব শিক্ষার্থীরা বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নেয়। শেষ হয় দুপুর ১টায়। তবে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪১৯ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও শনিবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৪১৬ জন। তাদের উখিয়ার কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে দুটি বাসের ব্যবস্থা করে উখিয়া থানা পুলিশ। সকালে তাদেরকে ওই বাসে করে কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে উখিয়ায় আসা এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শফিউল আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সীমান্তের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। আমরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সন্তানদের অন্যত্র পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হোসনে জয়নাব বলেন, “প্রথমে ছেলেমেয়েরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছে খুব শান্তিপূর্ণভাবে। এতে কোনো সমস্যা হয়নি।”


শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে দুটি বাসের ব্যবস্থা করে উখিয়া থানা পুলিশ/ ঢাকা ট্রিবিউন


উখিয়ার কুতুপালং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, “মিয়ানমারের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতে খবর আসে, ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এরপর সারারাত ধরে পরীক্ষা কেন্দ্রের সিট থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।”

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমরান হোছাইন সজীব ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। সকাল থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করার চেষ্টা হচ্ছে

কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “স্বাভাবিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরীক্ষা দিতে আসলে দুশ্চিন্তা হয়। তাই পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি আগামী সব পরীক্ষা নিয়মানুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।”


৪১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শনিবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৪১৬ জন/ ঢাকা ট্রিবিউন


উল্লেখ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেল এসে পড়ে সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড কোনারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেটি বিস্ফোরণে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মো. ইকবাল (১৭) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়। এ সময় আহত হয় আরও পাঁচজন।

এর আগে শুক্রবার বিকালে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আহত হন উইনু থোয়াইং তঞ্চঙ্গ্যা (২২) নামে এক তরুণ। এই পরিস্থিতির কারণে ঘুমধুমের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

About

Popular Links