Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সিলেট মহানগরে

‘সিলেটে এ বছরের জুন মাসে ৬২ বছরের মধ্যে রেকর্ড ১,৪৫৬.০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অথচ এ মাসের গড় বৃষ্টিপাত ছিল ৮১৮.৪৪ মিলিমিটার’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৪০ পিএম

জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন সিলেট মহানগর এলাকায়ও পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিসিকের ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় তিনি এমন মন্তব্য করেন। বাজেটে ১ হাজার ৪০ কোটি ২০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আয় ও সমপরিমাণ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাজেট ঘোষণা করেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

এ সময় মেয়র বলেন, “সিলেটে বর্ষা মৌসুমে প্রচণ্ড তাপদাহ, আবার রাতে কিংবা দিনে স্বল্প সময়ে একটানা অস্বাভাবিক বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছে নগরবাসীকে। এমনকি এবারের মৌসুমে সিলেট নগরীতে সবচেয়ে কম সময়ে বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাতের রেকর্ডও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি ছাড়াও চা বাগানের মধ্য দিয়ে প্রবহমান ছড়া ও খালের রুগ্ন দশা আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে এসব চা বাগানের ছড়া ও খাল খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছি। তারপরও এগুলো আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। সিলেটবাসীর স্বার্থে এসব বাস্তবায়ন জরুরী।”

এ বিষয়ে সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, সিলেটে এ বছরের জুন মাসে ৬২ বছরের মধ্যে রেকর্ড ১,৪৫৬.০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অথচ এ মাসের গড় বৃষ্টিপাত ছিল ৮১৮.৪৪ মিলিমিটার। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এ আবহাওয়াবিদ।


সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী/ ঢাকা ট্রিবিউন


বাজেট

দ্বিতীয় দফায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করা আরিফুল হক চৌধুরীর এটি চলতি মেয়াদের সর্বশেষ বাজেট। তার মেয়াদেই বৃদ্ধি পেয়েছে নগরীর আয়তন। ২৭টি ওয়ার্ড থেকে উন্নীত হয়েছে ৪২টি ওয়ার্ডে। ফলে নাগরিকসেবা প্রাপ্তির প্রত্যাশাও বেড়েছে। সেই আলোকেই এবারের বাজেট উপস্থাপন করছেন তিনি। চলতি মৌসুমে সিলেট নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পুরনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন মেয়র।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “এবার আকস্মিক বন্যার কারণে টানা কয়েকদিন মহানগরীর বেশ কয়েকটি এলাকার পানি নামতে পারেনি। মূলত নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। উল্টো সুরমা নদীর পানি মহানগরীর ছড়া দিয়ে ঢুকে অনেক এলাকা প্লাবিত করেছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নদী খনন করা, নিচু এলাকা যেমন উপশহরে পানির পাম্পিং স্টেশন করা, ছড়ার সংযোগস্থলে সুইচ গেইট তৈরি করা, ড্রেনের প্রশস্ততা আরও বৃদ্ধি করা।”

About

Popular Links