Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্সকে হাতুড়িপেটা

ভুক্তভোগীর সহকর্মীদের দাবি, হাতুড়িপেটার পাশাপাশি গলা টিপে হত্যারও চেষ্টাও চালানো হয়েছে

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:০৭ পিএম

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শিলা প্রামাণিককে (৩০) হাতুড়িপেটার ঘটনা ঘটেছে। আহত অবস্থায় তাকে মোহনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিলা এখন শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে তার মাথায় ছয়টি সেলাই লেগেছে।

আহত শিলার বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার সাবাইহাট। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত। আর অভিযুক্ত হামলাকারী মোহনপুর সইপাড়া এলাকার বাসিন্দা মেহেদী (২১)।

আরও পড়ুন- বিমানবালাকে ঘুষি মারায় আজীবন বিমান ভ্রমণে নিষিদ্ধ

ভুক্তভোগী শিলা প্রামাণিকের সহকর্মীদের দাবি, হাতুড়িপেটার পাশাপাশি গলা টিপে হত্যারও চেষ্টাও চালানো হয়েছে। তার গলায় অভিযুক্তের আঙুলের ছাপ রয়ে গেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় পেশাগত কাজ করছিলেন শিলা প্রামাণিক। হঠাৎ পেছন থেকে মাস্ক পরা এক যুবক তাকে উপর্যুপুরি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে। আক্রমণের শিকার শিলা চিৎকার করলে সহকর্মীরা এগিয়ে আসেন। তখন অভিযুক্ত যুবক হাতুড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।

মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুল কবির এ বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওই যুবককে কেউই চেনেন না। এমনকি শিলাও না। কী কারণে সে এমনটা করেছে, এটাও তারা জানেন না। শিলা এখানে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ থাকলে জানাতে পারতেন। কিন্তু এ ধরনের হামলা কেন? এখন তো অনেকে সেবা দিতেই ভয় পাবেন।”

আরও পড়ুন- ট্রাকে তোলার সময় চলন্ত বাসে ঢুকে গেলো বৈদ্যুতিক খুঁটি, যাত্রী নিহত

এদিকে, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওই নার্স কাজ করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে তাকে হাতুড়িপেটা করে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে ধরতে তৎপরতা চলছে।”

তিনি আরও জানান, হামলার শিকার ওই নার্স আসামিকে এর আগে কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন। কেন এমন অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে তা আসামিকে গ্রেপ্তারের পরই জানা যাবে।

এদিকে, অভিযুক্ত মেহেদীর বাবা রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে মাদকাসক্ত। তার মাথা ঠিক নেই। সে মাঝেমধ্যেই এমন আচরণ করে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ইফতেখার আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, “ওখানে যিনি ঘটনাটি ঘটিয়েছেন, তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যও আসেননি। একেবারে হাসপাতালের বাইরের একজন মানুষ। যেভাবে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। ওই নার্সকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার মাথায় আঘাত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

About

Popular Links