Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে কলেজছাত্রকে ‘নির্যাতন করে’ হত্যা

লিবিয়া প্রবাসী দালাল আলী হোসেনের সঙ্গে চুক্তিতে দেশটিতে যায় একওয়ান। সেখানে যাওয়ার পর দালাল চক্র তাকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন চালায়

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১০:২৬ পিএম

ইতালি পাঠানোর কথা ছিল সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের কলেজছাত্র একওয়ান ইসলামকে (১৮)। কিন্তু তাকে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের দালাল আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৩ অক্টোবর) এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন একওয়ান ইসলামের বাবা তরিকুল ইসলাম।

লিবিয়ায় বসবাসরত আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

এ বিষয়ে একওয়ানের বাবা তরিকুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “জায়গা-জমি বিক্রি করে ১৯ লাখ টাকা দিয়েও ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। এখন শুধু আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।”

জগন্নাথপুর থানার ওসি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মামলার চারজন আসামির মধ্যে দুইজন প্রবাসী। বাকি দুইজন পলাতক। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

জানা গেছে, গত বছরের ১৩ এপ্রিল একই গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী দালাল আলী হোসেনের সঙ্গে চুক্তিতে লিবিয়ায় যায় একওয়ান। সেখানে যাওয়ার পর দালাল চক্র তাকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এরপর মাফিয়াদের হাত থেকে প্রাণ রক্ষায় টাকা দাবি করা হয়। পরে ২৩ এপ্রিল তাদের কথামতো আরও সাত লাখ টাকা পাঠায় একওয়ানের পরিবার।

এক বছর পর ২০২২ সালের ১৫ জুন আরও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর চুক্তি হয় দালাল আলী হোসেন ও তার পরিবারের সঙ্গে। এর দুইদিন পর দালালদের কাছে একওয়ানের বাবা তার ছেলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন। এসময় তারা জানায় একওয়ান ১৬ জুন মারা গেছে।

তিন মাস পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর লিবিয়া ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় একওয়ানের মরদেহ দেশে আসে। ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে একওয়ানের মরদেহ দাফন করা হয়।

About

Popular Links