Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টঙ্গী থেকে বনানী পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে নাকাল যাত্রীরা

বুধবার সকাল থেকেই ময়মনসিংহগামী সড়কের টঙ্গীর মিলগেট থেকে রাজধানীর বনানী এবং ঢাকাগামী সড়কের টঙ্গীর বোর্ড বাজার পর্যন্ত যানজট দেখা দেয়

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৯ পিএম

গতদিনের মতো আজকের সকালটিও রাজধানী ঢাকার বনানী-উত্তরা-এয়ারপোর্ট সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য বিভীষিকময় হয়ে দেখা দেয়। বুধবার (২৬ অক্টোবর) ভোর থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর যানজট রাজধানীর বনানী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কোনো যানবাহনই এগোচ্ছে না। বেলা বাড়তেই সড়কে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে, সেই সঙ্গে বাড়ে যানজটও। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকা থেকে গাজীপুর এবং গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী অফিস করা যাত্রীরা।

সকাল থেকেই ময়মনসিংহগামী সড়কের টঙ্গীর মিলগেট থেকে রাজধানীর বনানী এবং ঢাকাগামী সড়কের টঙ্গীর বোর্ড বাজার পর্যন্ত যানজট দেখা দেয়।

সকাল সাড়ে ৮টায় টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী নূরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সকাল ৭টা থেকে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সামনে এগোচ্ছেই না। সকাল ৮টায় অফিসে উপস্থিত থাকার কথা। এখন বাজে সাড়ে ৮টা। আজ অফিস করতে পারবো কি-না জানি না। প্রায়ই এই মহাসড়কে জ্যামে আটকে থাকতে হয়। আজ এমন অবস্থা হয়েছে, না পারছি সামনে যেতে, না পারছি গাড়ি ঘুরিয়ে বাসায় ফিরে যেতে।'”

টঙ্গী কলেজগেট এলাকার ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি প্রতিদিন সকাল ৭টায় গাজীপুরের মাওনায় অফিসে যান। আজ সকালে বের হয়েই দেখেন, সড়কে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। কোনো গাড়ি সামনে এগোচ্ছে না। তাই যানজটে আটকে থাকার ভয়ে অফিসে না গিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। 

সোমবার দিন ও রাতে টানা বৃষ্টিতে এই মহাসড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। 

বোর্ড বাজার এলাকার বাসিন্দা হুমায়নি কবির বলেন, “সড়কের পাশের ড্রেন আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি উপচে মহাসড়কের গর্তে গিয়ে জমা হচ্ছে। তাছাড়া বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক কিছুটা সরু হয়ে গেছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে বৃষ্টির পানি জমে দুর্ভোগ এখন নিয়মিত পরিণত হয়েছে।”

জামালপুরের রাজীব পরিবহনের চালক মাইনুদ্দিন বলেন, “টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় গাড়ি চলছে এক লেনে। উভয়মুখী সড়কে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট। মহাসড়কের গাজীপুরের অংশে বিভিন্ন স্থানে নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে ফেলে রাখায় সড়কে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন যদি টঙ্গীর মিলগেটের অল্প রাস্তাটুকু মেরামত করে দিতো, তাহলে আজকে এরকম যানজট হতো না।”  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আব্দুল্লাহপুর ট্রাফিক পুলিশ বক্সে কর্মরত এক পুলিশ সদস্য বলেন, “ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সোমবার দিনব্যাপী বৃষ্টি হওয়ায় সড়কের গর্তে পানি জমে গেছে। ফলে চলাচলরত যানবাহনের চাকা ওইসব গর্তে পড়ে আরও বড় গর্ত হয়েছে। এতে যানবাহনের চাকা গর্তে আটকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।”

বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক মহিরুল ইসলামের জানান, সড়কের স্থায়ী নির্মাণকাজ চলছে। নভেম্বরের দিকে কাজ শেষ হলে আর ভোগান্তি থাকবে না। যেখানে বেশি ভাঙা, সেখানে মেরামত করছি। বৃষ্টির কারণে আবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্থায়ী কাজ করা হচ্ছে।

About

Popular Links