Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চালক ঘুমালে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে যাত্রী-মালিকের কাছে

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন ইউএনবিকে জানান, গাড়ির মালিকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে। ড্রাইভাররা সতর্ক থাকবে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:২৩ পিএম

নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বা ঘুমিয়ে গাড়ি চালালেই সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে গাড়ির যাত্রী ও মালিকের কাছে। এমনকি নেশাগ্রস্থ অবস্থাতেও চালু হবে না গাড়ি।

 ‘ড্রাইভার এন্টি স্লিপ অ্যান্ড অ্যালকোহল অ্যালার্ম ডিটেক্ট’ নামে একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় পর্বের ছাত্র ছানোয়ার হোসেন। দীর্ঘ এক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সফলতা পান তিনি। এই প্রযুক্তিটি প্রথমে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত স্কিল কম্পিটিশনে এবং পরে রংপুরে বিভাগীয় স্কিল কম্পিটিশনে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ছানোয়ারের এই সাফল্যে খুশি সহপাঠীরাসহ শিক্ষকরা।

জানা গেছে, যে কোনো গাড়ির ড্যাস বোর্ডের সঙ্গে কনসুলিং করে সম্পৃক্ত করা যাবে আইবিলিং ও অ্যালকোহল সেন্সর। চালকের সামনে এই আইবিলিং সেন্সর ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে চালককে ডিটেক্ট করবে। এ ছাড়াও গাড়ির সেলফের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে ম্যাগনেটিক রিলে। যা ঘ্রাণ সংবেদনশীল। চালক কোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করলেই সার্কিট অন হবে না। ফলে গাড়ি স্টার্ট নেবে না। এই সেন্সরের সঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি মোবাইলে ডাটা সেট করা থাকবে। গাড়ির ড্রাইভার চলন্ত অবস্থায় নেশা গ্রহণ করলে বা ঘুমিয়ে পড়লে তিন সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা এলার্ম মোবাইলে বেজে উঠবে। ফলে গাড়ির মালিক, ম্যানেজার বা সুপারভাইজার চালককে সতর্ক করতে পারবে। এই এলার্ম সিস্টেম দূরপাল্লার গাড়ির ভিতরেও সংযোগ করা যাবে।

প্রযুক্তি উদ্ভাবনকারী ইলেকট্রনিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছানোয়ার হোসেনের বাড়ি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দহিলা বড়হাট পাড়ায়। বাবা আব্দুল আজিজ একজন দূরপাল্লার গাড়িচালক। তার বড় দুই ভাইও একই পেশায় জড়িত। মা ছানোয়ারা বেগম মারা গেছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বাস ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সহিদুজ্জামান রাছেল ইউএনবিকে জানান, এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে মৃত্যুর হারও কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ছানোয়ার আগামীতে এই প্রযুক্তির উন্নয়নসহ আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারবেন।

ছানোয়ার হোসেন জানান, পরিবারে বাবা ও দুভাই ড্রাইভারের চাকরি করার বিষয়টি মাথায় রেখে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে এই প্রকল্পটি নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে প্রযুক্তিটি নির্মাণ করেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিকস টেকনোলোজি বিভাগের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর ও ছানোয়ারের গাইড টিচার সুমন কুমার সাহা ইউএনবিকে জানান,  এই ইনস্টিটিউটে অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা ভালো কিছু উদ্ভাবন করতে চায়। কিন্তু একটি প্রজেক্ট তৈরি করতে যে ব্যয় হয় তাদের পক্ষে সেটা সংকুলন করা সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে সরকার বা অন্য কোনো সংস্থা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালে আরো ভাল কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব। 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন ইউএনবিকে জানান, গাড়ির মালিকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে। ড্রাইভাররা সতর্ক থাকবে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

About

Popular Links