Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হাতিরঝিলে প্রেমের শুরু, সেখানেই লাশ

শনিবার সকালে হাতিরঝিল লেকের মহানগর ব্রিজ থেকে লাফ দেন তিনি

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২, ০৬:০৪ পিএম

অভিমানে বাড়ি ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার নলুয়া গ্রামের আসাদ খান (২৪)। ঢাকায় এসে হতাশ আসাদ ঘুরতেন এখানে-সেখানে। 

আসাদ একসময় হাতিরঝিল মধুবাগ এলাকায় আড্ডা দিতেন। সেখানেই পরিচয় হয় সানজিদা আক্তার মীমের সঙ্গে। সেই পরিচয় গড়ায় প্রেমে। ছয় মাস আগে বিয়ে করেন তারা। 

শনিবার (১২ নভেম্বর) হাতিরঝিল থেকে আসাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানের জেরে আত্মহত্যা করেছেন আসাদ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

রবিবার বিকেলে আসাদের স্ত্রী সানজিদা বলেন, “আসাদের খুব রাগ ছিল। একটু কিছু হলেই রেগে যেতো।”

তিনি আরও বলেন, “বিয়ের আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয় আসাদ। বিয়ের পরে বাড্ডা লিংক রোড একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। খুব ভালোই ছিলাম আমরা। কিছুদিন আগে আসাদের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। আমি মধুবাগে বাবার বাসায় চলে আসি।”

হাতিরঝিল থানা পুলিশের ধারণা, স্ত্রী ও পরিবারের ওপর অভিমান করে আসাদ আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় গতরাতে হাতিরঝিল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। মরদেহ সেখানেই আছে, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলা ট্রিবিউন জানায়, কিছুদিন ধরেই সানজিদাকে একসঙ্গে থাকার অনুরোধ করে আসছিলেন আসাদ। কিন্ত সানজিদা তাতে রাজী হননি। মৃত্যুর আগেও বেশ কয়েকবার স্ত্রীকে তার কাছে চলে আসার অনুরোধ জানান আসাদ। তবে, কী কারণে তিনি ফিরতে রাজি হচ্ছিলেন না, সে বিষয়ে কিছুই বলতে নারাজ সানজিদা।

তিনি বলেন, “দুই-তিন মাস থেকে ঝগড়া চলছিল, আমরা আলাদা থাকছিলাম। গত কয়েক দিন থেকে আমাকে তার কাছে চলে যেতে বলছিল। আমি যেতে না চাওয়ায় আবারও ঝগড়া হয়। তারপর কীভাবে কী হয়ে গেলো কিছুই জানি না। সম্পর্ক ভালো না থাকায় ওর পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।”

আসাদ বাড্ডার একটি বহুমুখী কোম্পানির এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন।

এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, “স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য থেকে এই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তেমন কিছু জানা যায়নি। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল থেকে আসাদের বাবা ও ভাই হাতিরঝিল থানায় এসেছেন।”

শনিবার সকালে হাতিরঝিল লেকের মহানগর ব্রিজ থেকে লাফ দেন আসাদ। প্রত্যক্ষদর্শী দুই তরুণ দেখতে পেয়ে স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মীকে জানালে তারা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

About

Popular Links