Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইসি: ইভিএমে প্রযুক্তিগত কারচুপি অসম্ভব

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশের ছবি এবং আঙুলের ছাপসহ ভোটার ডাটাবেস রয়েছে, তাই বাংলাদেশের ইভিএম প্রকৃত ভোটারদের শনাক্ত করতে পারে। ভারতের তা করার সুযোগ নেই’

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২, ১১:০০ পিএম

এককালীন ব্যবহারের জন্য চিপ তৈরি হওয়ায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) কারচুপি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর। তিনি বলেন, “ইভিএমে কিছুই নতুন করে লেখার সুযোগ নেই। এছাড়া প্রোগ্রামিং পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। অনেকেই মনে করেন এটা নির্বাচন কারচুপির মেশিন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা।”

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

কমিশনার আলমগীর বলেন, “বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি ইভিএমে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত দল দ্বারা ইভিএম পরীক্ষা করতে বলেছে।”

আরও পড়ুন- ইসি: জানুয়ারিতে প্রকল্প অনুমোদন না হলে ইভিএম কেনা বাধাগ্রস্ত হবে

কমিশনার বলেন, “ইভিএম নিয়ে প্রথমেই বলতে হবে প্রোগ্রামিং করে ফলাফল উল্টে দেওয়া যায়। ধরনের বক্তব্য তাত্ত্বিকভাবে সঠিক হলেও কার্যত ভুল হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনি বলতে পারেন যে, একটি কোম্পানির ওষুধ ভেজাল হতে পারে, কিন্তু অন্য সব কোম্পানির ওষুধ ভেজাল নয়। মোদ্দা কথা হলো আমাদের ইভিএম আলাদা। অনেকেই বলছেন এটা ভারতে ব্যবহৃত ইভিএমের মতো। আসলে, এটি ভারতের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।”

তিনি আরও যোগ করেছেন যে, “ভারতে ইভিএমে ভোটার শনাক্তকরণ ম্যানুয়ালি করা হয় এবং বাংলাদেশে এটি ইলেকট্রনিকভাবে করা হয়।”

তিনি বলেন, “যেহেতু বাংলাদেশের ছবি এবং আঙুলের ছাপসহ ভোটার ডাটাবেস রয়েছে, তাই বাংলাদেশের ইভিএম প্রকৃত ভোটারদের শনাক্ত করতে পারে। ভারতের তা করার সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে ইভিএমের জন্য যে প্রোগ্রামিং করা হয়েছে তা কেবল যোগ করতে পারে।”


ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিচ্ছেন একজন ভোটার/ মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন


তিনি বলেন, “এখানে এমন কোনো সুযোগ নেই যে, কেউ ডিভাইসটি ম্যানিপুলেট করতে পারে, এমনকি বাইরে থেকেও নয়। সুতরাং, একবার লেখা হয়ে গেলে পুনরায় লেখা বা সম্পাদনা করার সুযোগ নেই, কারণ এটি একবারের জন্য ব্যবহারযোগ্য।”

সাবেক ইসি সচিব আলমগীর বলেন, “বাংলাদেশে ইভিএমের সঙ্গে ইন্টারনেটের কোনো সংযোগ নেই। ব্যালট ইউনিটের সঙ্গে প্রদত্ত সংযোগটি কাস্টমাইজড যোগ্য। এর মধ্যে কিছুই ঢোকানো যাবে না। শুধুমাত্র এই ইভিএমের জন্য যে ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে তা ছাড়া আপনি অন্য কোনো ডিভাইস যোগ করতে পারবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে ব্যবহৃত ইভিএম শুধুমাত্র ক্যালকুলেটরের মতো যোগ-বিয়োগ করে। ক্যালকুলেটরগুলোর প্রোগ্রাম পরিবর্তন করার বিকল্প নেই, এই মেশিনগুলোও একই। যারা ইভিএম নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন, তারা এটা জানেন না বা বোঝেন না। তারা চাইলে যেকোনো ইভিএম পরীক্ষা করতে পারেন।”

আরও পড়ুন- সিসিটিভি ক্যামেরায় ভোটারের গোপনীয়তা নষ্ট হয় না, দাবি ইসির

ইসি কমিশনার আরও বলেন, “ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুবিধা হলো নির্বাচনের আগে বা পরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ভোটার ছাড়া ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “ভোটাররা কেন্দ্রে না আসলে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ১০% ভোটার উপস্থিত হলে মাত্র ১০% ভোট দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, ১০% ভোটারের পক্ষে প্রকৃতপক্ষে ব্যালটে ১০০% ভোট দেওয়া সম্ভব। তাই ইভিএমের মাধ্যমে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্রে কারচুপিতে সহায়তাকারী প্রার্থী, এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে না বলে এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রের বাইরে রাখা যাবে না।”

About

Popular Links