Friday, June 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কেশবতী ঝুমার লম্বা চুলই কি তবে কাল হলো?

কেশবতী কণ্যার মেঘবরণ চুল অটোরিকশার মোটরে পেঁচিয়ে মাথার খুলি স্থানচ্যূত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রয়োজন

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪৮ এএম

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার রাড়ীপাড়া এলাকার কলেজছাত্রী ঝুমা রানী মজুমদার। তিনি স্থানীয় কুমিরা মহিলা ডিগ্রি কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ছোটবেলা থেকেই যত্ন নিয়ে বড় করে আসছিলেন মাথাভর্তি চুলগুলোকে। তারও চোখে ছিল রঙিন জীবনের স্বপ্ন। 

সেই বড় চুলই যেন কাল হলো তার। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মোটরে চুল জড়িয়ে মাথার খুলি স্থানচ্যূত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় তার মাথার ত্বকের ৭০%-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ঝুমা এখন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন। 

চিকিৎসকরা জানান, নজিরবিহীন এ দুর্ঘটনার পর ঝুমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শংকিত। দেশে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। ভারতে নিতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থ।

ঝুমার শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার বলেন, “গত ৩ নভেম্বর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রাড়ীপাড়ার বাড়ি থেকে অটোরিকশা করে কলেজের উদ্দেশে রওনা হয় ঝুমা। তার লম্বা চুল বেণী করা ছিল। কলেজে যাওয়ার পথে সঙ্গী হয় আরও কয়েকজন সহপাঠী। চালকের পেছনের আসনে সহপাঠীদের মুখোমুখি বসা ছিলো সে। তাদের বাহন আমতলা এলাকায় পৌঁছালে ঝুমার বেণী করা লম্বা চুল পেঁচিয়ে যায় ইজিবাইকের মোটরে। দ্রুতগতির  ইজিবাইকের ঘূর্ণনরত মোটরের টানে মুহূর্তে চুল ছিঁড়ে মাথার চামড়াসহ উঠে যায়।”

এ অবস্থায় দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য সহপাঠীরা রক্তাক্ত অবস্থায় মাথায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রথমে ঝুমাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

ঝুমার সহপাঠীরা জানান, কালো লম্বা চুল নিয়ে পড়শি আর সহপাঠীরা রীতিমতো ঈর্ষা করতো ঝুমাকে। কখনো ছেড়ে দিয়ে, আবার কখনো বেণী করা দীঘল কালো চুল নিয়ে ঝুমা চলাফেরা করতো।

কারও ভাষায়, কেশবরণ কন্যার মেঘবরণ চুল, কেউবা আবার কেশবতী কন্যা। কিন্তু এই লম্বা চুলে জড়িয়ে দুর্ঘটনার কারণে এখন শয্যাশায়ী এই কলেজছাত্রী।

তার মা রক্তিমা মজুমদার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “হাসপাতালের বিছানায় কখনো চোখ বুঁজে, কখনো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছে ঝুমা। গোটা মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। তীব্র ব্যথায় মাঝে মাঝেই চিৎকার করে ওঠে সে। শুতে পারে না, কোনো কিছু বলতেও পারে না।”

তিনি জানান, তিন বোনের মধ্যে ঝুমা সবার বড়। মেজো বোন প্রতিবন্ধী আর ছোট বোনের বয়স তিন বছর।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. হালিমা খাতুন বলেন, “মেয়েচির মাথার চামড়ার ৭০% উঠে গেছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঝুমার ভবিষ্যত নিয়েও শংকা রয়েছে।”

ঝুমার হতদরিদ্র দিনমজুর বাবা নেপাল মজুমদারের পক্ষে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন। তাই তিনি মেয়ের সুচিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। সহযোগিতার জন্য সহায়তা পাঠানো যাবে- রক্তিমা মজুমদার, হিসাব নম্বর: ০১০০২২৯৪০৯৮১১, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, পাটকেলঘাটা বাজার শাখা, সাতক্ষীরা।

About

Popular Links