Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ, ৪ পুলিশ বরখাস্ত

‘নোমান নদীতে পড়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল। এ সময় রিয়াজ নোমানকে নদী থেকে উদ্ধারের প্রস্তুতি নেওয়ায় এসআই স্বরূপ কান্তি পাল তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন’

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ১১:১৬ পিএম

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। মো. নোমান (২৭) নামের ওই যুবকের সন্ধান শুক্রবার রাত পর্যন্ত মেলেনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পাতারখাল মাছঘাট এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন নোমান।

ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নোমানকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়, এরপর শুক্রবার উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

নিখোঁজ ওই যুবক উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পাতারখাল মাছ ঘাটের শ্রমিক।

আরও পড়ুন- থানায় জব্দকৃত ১৯৫ কেজি গাঁজা খেয়েছে ইঁদুর, দাবি ভারতীয় পুলিশের

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দৌলতখান থানা পুলিশের গাড়ি চালক মো. রাসেল ও মো. সজীব নামের দুই কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও শুক্রবার সকালে একই থানার এসআই স্বরূপ কান্তি পাল ও এএসআই মো. সোহেল রানাকে প্রত্যাহার করে ভোলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পাতারখাল মাছঘাট এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন নোমান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় শ্রমিক ইসমাইল, ফারুক, রুবেল ও নোমানসহ আরও ৭-৮ জন মেঘনা নদীর পাতার খাল মাছ ঘাট এলাকায় জুয়া খেলছিলেন। এ সময় দৌলতখান থানার এসআই স্বরূপ কান্তি পালের নেতৃত্বে কনস্টেবল রাসেল ও সজীব জুয়ার আসরে গিয়ে তাদেরকে ধাওয়া করেন। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ফারুক, ইসমাইল, রুবেল ও নোমান মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দেন। এর মধ্যে ফারুক, ইসমাইল ও রুবেল সাঁতরে তীরে উঠে আসতে পারলেও নোমান ডুবে যান।

আরও পড়ুন- ‘চাঁদা চাওয়ায়' ফরিদপুরে পুলিশ কনস্টেবলকে জনতার গণধোলাই

নদী থেকে তীরে ওঠা ফারুক ও রুবেল জানান, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা মেঘনা নদীতে পড়ে যান। এর মধ্যে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠে যান। এরই মধ্যে পুলিশ সদস্যরা ওপর থেকে নোমানকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে থাকেন। তাদের ধারণা পুলিশের নিক্ষেপ করা ইট নোমানের মাথায় লেগেছে। যার কারণে নোমান সাঁতরে তীরে উঠতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী দৌলতখান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, নোমান নদীতে পড়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল। এ সময় রিয়াজ নোমানকে নদী থেকে উদ্ধারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ায় এসআই স্বরূপ কান্তি পাল তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন।

দৌলতখান ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. শাহাদাত হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সন্ধান না পাওয়ায় অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে।

About

Popular Links