Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘আত্মহত্যারোধে বাড়িয়ে দিতে হবে সহমর্মিতার হাত’

কর্মসূচি শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:১৫ পিএম

সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েই সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতারোধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান। 

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজে বাস করছি যেখানে মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা নেই। এই কারণে বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হচ্ছে, যা আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে হতাশাচ্ছন্নদের। আমরা মানুষের প্রতি সহমর্মিতার মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে আত্মহত্যার এ প্রবণতা প্রতিরোধ করা যাবে।”

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘স্টপ সুইসাইড, মানুষ বাঁচুক ভালোবাসায়’ শীর্ষক কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। 

কর্মসূচিতে অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান। ছবি- সংগৃহীত

তানজীম উদ্দিন খান বলেন, “এক বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় নয় জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিমেস্টার পদ্ধতির পড়াশোনা কাঠামোগত চাপ তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব রয়েছে। তাদের উচিত আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করা। যদি সেটি কার্যকরভাবে সম্ভব হয়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সেলিম হোসেন বলেন, “আত্মহত্যা একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এর পেছনে রাষ্ট্রের দর্শন, অর্থনীতি, রাজনীতি জড়িত। তিনি বলেন, রাষ্ট্রে যখন বেকারত্বের হার বেড়ে যায়, অবিচার হয়- তখন এই প্রবণতা বাড়ে। আমরা যদি এর দায়িত্ব না নিই, আগামীতে এ হার আরও বাড়বে। যারা হতাশায় আছে তাদেরকে বোঝাতে হবে জীবন অনেক সুন্দর। একবার ব্যর্থ হওয়া মানে সব শেষ নয়। জীবনে অনেক সুযোগ আসবে।”

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা আত্মহত্যাবিরোধী শ্লোগান সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে দাঁড়ায়। ছবি- সংগৃহীত 

গণমাধ্যমকর্মী ইফতেখার উদ্দীন বলেন, “আমাদের আত্মহত্যার সংবাদ প্রচারে আরও সতর্ক হতে হবে। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে চটকদারভাবে আত্মহত্যার সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। আত্মহত্যার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা হবে, এটা কোমলমতি শিশুদের মাঝে এক ধরনের উৎসাহ কাজ করছে।”

চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহাদাত রাসেলের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন মার্কেটিং বিভাগের আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থী আফিয়া সারিকার বোন সুমাইয়া সারিকা। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা আত্মহত্যাবিরোধী শ্লোগান সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে দাঁড়ায়। কর্মসূচি শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।


About

Popular Links