Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুই ছাত্রকে পুলিশের গাঁজা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে মারধর

স্থানীয়দের বাধার মুখে ওই দুই ছাত্রকে থানায় নিতে পারেনি অভিযুক্তরা। ভুক্তভোগীদের একজন গুরুতর অবস্থায় মানিকগঞ্জের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:১৫ পিএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় দুই কলেজছাত্রকে গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে ঘুষ নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। ব্যর্থ হয়ে ওই ছাত্রদের বেদম মারধর করা হয়। এমন অভিযোগ উঠেছে হরিরামপুর থানা পুলিশের দুই সদস্য, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ব্যক্তিগত সহকারী ও এক সোর্সের বিরুদ্ধে। 

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আন্ধারমানিক খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকায় থানা পুলিশের দুই সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)। 

পুলিশি নির্যাতনে আহত শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা কলেজ স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ (২৪) এবং দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতক শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন (২৪) দুই বন্ধু মিলে ঘটনাস্থল পদ্মা নদীর পাড়ে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় তাদের দুজনকে গাঁজা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে হরিরামপুর থানা পুলিশের ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলামের বাসার কাজের লোক মাসুদ ও আন্ধারমানিক গ্রামের মামুন। তাদের সহায়তা করে পুলিশ সদস্য জব্বার ও লতিফ। 

ফয়সাল ও নিজাম প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তাদের মারধর করে।

সূত্র জানায়, নিজাম উদ্দিনকে বেধড়ক লাথি-কিল-ঘুষি এবং বাঁশ দিয়ে মারধর করে পুলিশ সদস্য জব্বার। পুলিশের আরেক সদস্য লতিফ মারধর করে ফয়সালকে। ওই দুই ছাত্রকে হাতকড়া পরিয়ে থানায়ও নেওয়ার চেষ্টা করে তারা।

স্থানীয়দের বাধার মুখে তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারা দুই ভুক্তভোগী কলেজছাত্রকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত নিজামকে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। 

এ বিষয়ে স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদুল হক বলেন, “আন্ধারমানিক পদ্মাপাড়ে ওসির ব্যক্তিগত কাজের লোক মাসুদ এবং স্থানীয় যুবক মামুন দুই ছাত্রকে মারধর করে। পরে থানার কনস্টেবল লতিফ ও জব্বার এসেও ওই দুই ছাত্রকে বেদম পেটায়।”

হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মুসা জানান, “আহত অবস্থায় নিজাম নামের এক তরুণকে হাসপাতালে আনা হয়। আঘাতের কারণে তার প্রচুর শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। তাকে অক্সিজেন দেই। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনালে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।” 

এ বিষয়ে উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাশার সবুজ বলেন, “পুলিশ সদস্য ও অন্য দুই অভিযুক্ত কলেজছাত্রদের গাঁজা দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছিল। ব্যর্থ হয়ে তাদের ব্যাপক মারধর করা হয়। মাসুদ থানার ওসির ব্যক্তিগত কর্মচারী। নিজেকে বিভিন্ন সময় পুলিশও পরিচয় দেয় সে।”

এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, “পুলিশ দুই শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়েছে। যা দুঃখজনক। বিষয়টি এসপি সাহেবকে জানিয়েছি।”

এদিকে, এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল লতিফ “প্রতিবেদন না করার জন্য” বলেন ঢাকা ট্রিবিউনকে।

হরিররামপুর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর রহমানের ভাষ্য, “গাঁজা দিয়ে ফাঁসানোর মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। ওই দুই ছাত্রের সঙ্গে মামুন নামে এক স্থানীয় তরুণের মারামারির ঘটনা ঘটেছে মাত্র।”

বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান রাতেই হরিরামপুর থানায় যান। তিনি অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের দুজনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

About

Popular Links