Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জামিন পেলেন ফারদিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বুশরা

১৫ ডিসেম্বর ডিবি ও র‌্যাব আলাদা সংবাদ সম্মেলনে বলেছে যে, ‘ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন’

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:০৫ পিএম

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নুর পরশ হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমাতুল্লাহ বুশরা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। রবিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৭ এর বিচারক তাহসিন ইফতেখার বাদী ও আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

৫ জানুয়ারি বিচারক এই আদেশের জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। শুনানিতে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেছিলেন, বুশরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। ১৫ ডিসেম্বর ডিবি ও র‌্যাব আলাদা সংবাদ সম্মেলনে বলেছে যে, “ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “এই মামলায় বুশরা প্রধান আসামি। ঘটনার দিন রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি ফারদিনের সঙ্গেই ছিলেন।” ফারদিনের বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানাও শুনানিকালে উপস্থিত ছিলেন এবং বুশরার জামিনে তিনি আপত্তি জানান।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ১৬ নভেম্বর বুশরার জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে রাখার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ৫ ডিসেম্বর হাকিম আদালতে বুশরার জামিন আবেদন আবারও খারিজ হলে তিনি জজ আদালতে আবেদন করেন।

ফারদিন নূর পরশের বাবা নুর উদ্দিন রানা বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হীরন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি আমার পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করবেন।”

মামলার তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ফারদিন খুন হননি, আত্মহত্যা করেছিলেন। আর তার মৃত্যুর সঙ্গে বুশরার কোনো “সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি”। সুতরাং আদালতে এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ফারদিনের বাবার ভাষ্য, “আমি তদন্ত কর্তৃপক্ষের আত্মহত্যার ভাষ্য মানছি না। সুতরাং বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বুশরা জামিন পাক তা চাই না। সে দোষী না হলে অবশ্যই মামলায় শুধু জামিন নয়, অব্যাহতি পাবে। আমি তখন নিজেই তাকে যেন জামিন দেওয়া হয়, এটা আদালতে দাঁড়িয়ে বলব; কিন্তু এখন নয়। আমাকে তদন্ত কর্তৃপক্ষ বলেছে আগামী ১৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।”

২৪ বছর বয়সী ফারদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন ফারদিন। আর তার বন্ধু আমাতুল্লাহ বুশরা পড়েন ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মেসে থাকতেন তিনি।

বছর পাঁচেক আগে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ফারদিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে ফারদিনের বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা জানিয়েছিলেন। ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পর ৭ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল নৌ-পুলিশ। আর ফারদিন নিখোঁজ হওয়ার আগে তাকে সর্বশেষ রামপুরা এলাকায় বুশরার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। সে কারণে রামপুরা থানাতেই একটি জিডি করেছিলেন ফারদিনের বাবা।

ছেলের লাশ পাওয়ার দুই দিন পর ১০ ডিসেম্বর ভোরে তিনি রামপুরা থানাতেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, সেখানে বুশরাকেই একমাত্র আসামি করা হয়। পরে ওইদিনই বুশরাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেওয়া হলে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছিলেন আদালত। রিমান্ড শেষে আবারও তাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আতাউল্লাহ তাকে কারাগারে রাখার আদেশ দেন।

শীতলক্ষ্যা থেকে ফারদিনের লাশ উদ্ধারের ৪০ দিন পর গত ১৪ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব উভয়ের তরফেই সাংবাদিকদের জানানো হয়, এই তরুণ সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তারপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেনি তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার রাজিব আল মাসুদ ৩০ ডিসেম্বর বলেছিলেন, “ভিসেরা প্রতিবেদন না পাওয়ার কারণে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারছেন না তারা।”

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান অবশ্য বলেছিলেন, “ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন তারা ডিবির কাছে জমা দিয়েছেন। ভিসেরা প্রতিবেদনে কোনো রাসায়নিক বা বিষাক্ত কিছু পাওয়া যায়নি।”

About

Popular Links