Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গুলশানের ‘স্পা সেন্টারে’ অভিযান, ছাদ থেকে লাফিয়ে তরুণীর মৃত্যু

স্পা সেন্টারের ভেতরে সাতজন মেয়ে ও তিনজন ছেলেকে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসা করলে তারা অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:০৩ পিএম

রাজধানীর গুলশানের একটি স্পা সেন্টারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অভিযানের সময় ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ফারজানা (১৯) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন রিয়া আক্তার (২৩) নামে আরও এক তরুণী।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে গুলশান-২ এর ৪৭ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন।

তিনি বলেন, দুই তরুণীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারজানাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “গুলশানের স্পা সেন্টারের ওই ভবনের সামনে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি থামলে এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই ভবনের নামে তো অভিযোগ আছে'। তখন দুজন পুলিশ সদস্যকে ওই ভবনে পাঠানো হয়। তারা সব ফ্লোরে গিয়ে নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট দিচ্ছে কি-না জিজ্ঞাসা করেন। বাড়িটির চতুর্থ তলায় গিয়ে দরজা খুলতে বলা হলে ভেতরের লোকজন খোলেনি। সন্দেহ হলে তারা নিচে থাকা অন্য সদস্যদের ফোন করে বিষয়টি জানান।”

তিনি আরও বলেন, “নিচে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা সেখানে গেলে চার-পাঁচ মিনিট পর তারা দরজা খুলে দেয়। সেখানে সাতজন মেয়ে ও তিনজন ছেলেকে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসা করলে তারা অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন। এ সময় হঠাৎ নিচ থেকে দুজন উপরে উঠে জানায়, রাস্তায় দুটি মেয়ে পড়ে আছে। তাদেরকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

ওই কর্মকর্তা জানান, ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ সদস্যদের দেখে ওই দুই তরুণী ভয় পান। এরপর তারা ভবনের ছাদে উঠে নিচে লাফ দেন। বাকিদের আটক করে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এরমধ্যে ছয়জন মেয়ে ও তিনজন ছেলে।”

এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

নিহত ফারজানার স্বামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমার স্ত্রী বিউটি পার্লারে কাজ করতো। আজ চাকরিতে প্রথম গিয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট ও এপিবিএনের গাড়ি দেখে আমার স্ত্রীসহ আরেকজন নারী ভবন থেকে ভয়ে লাফিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় পাই।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার বোন এবং স্ত্রী বেলা ১১টার দিকে গুলশানের একটি পার্লারে কাজের জন্য বের হন। পরে তিনি জানতে পারেন ফারজানা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, আর তার বোন আটক হয়েছেন।

অভিযানের বিষয়ে জানতে উত্তর সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।

About

Popular Links