Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মসজিদে জামায়াত নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ, আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটুনি

অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম মাদানি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মসজিদে আমি ২৮ বছর ধরে বয়ান করছি। আমার দিকে কেউ কখনও চোখ তুলে কথা বলেনি’

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:১৮ পিএম

সিলেটের ছাতক উপজেলার একটি মসজিদে জুমার নামাজের আগে “উসকানিমূলক” বক্তব্য দিচ্ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতা। এ সময় আওয়ামী লীগের এক নেতা তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় শিবিরের কর্মীরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার দুটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি আলোচনায় আসে উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর। অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায়।

এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “গোবিন্দগঞ্জ ফজলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও নতুনবাজার জামে মসজিদের খতিব আব্দুস সালাম মাদানির বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন স্থানীয় কাউসার আহমেদ। তারপর তাকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। আমরা আজকেও তার সঙ্গে কথা বলেছি। উনি মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।”

ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফয়জুর রহমান বলেন, “অনেকেই আমাকে মোবাইলের মাধ্যমে মসজিদের বয়ানে সাম্প্রদায়িক, উসকানিমূলক ও মিথ্যা বয়ানের বিষয়ে জানিয়েছেন। শুক্রবার জামায়াত নেতা আব্দুস সালাম মাদানির বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় তার অনুসারীরা তার সামনেই ওই মুসল্লিকে পিটিয়েছেন। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।”

সুনামগঞ্জ-২ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজার মসজিদে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করায় এক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিকে জামায়াত-শিবিরের লোকজন মসজিদেই মারধর করেছেন। আমি বিষয়টি জানার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”

মারধরে আহত কাউসার আহমেদ গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

মঙ্গলবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি অসুস্থ ছিলাম, তাই থানাসহ সবাইকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। আমি বাড়ি ফিরেছি। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। এখন থানায় গিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম মাদানি প্রতি শুক্রবার বয়ানে ধর্মীয় উসকানি, অপপ্রচার ও সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলেন। গোবিন্দগঞ্জ জামায়াতের ঘাঁটি হওয়ায় তার এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পান না। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বয়ান করছিলেন আব্দুস সালাম মাদানি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের নাম হিন্দু সূর্য সেনের নামে নামকরণ করেছে'। আরও সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন।”

কাউসার আহমেদ আরও বলেন, “আমি শান্ত ও নম্র ভাষায় মিম্বরে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ করি। তখন তিনি আমাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেন। নামাজ শেষে বাইরে বেরিয়ে দেখি তার অনুসারী, জেলাখাটা শিবিরের নেতাকর্মীরা হকিস্টিক ও অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তখন আমি দৌড়ে মসজিদে ঢুকে পড়ি। সেখানে তারা আমার ওপর হামলা চালায়।”

তিনি আরও বলেন, “মুসল্লিরা আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তারা এগিয়ে না এলে হয়তো আমাকে মসজিদের ভিতরই খুন করে ফেলতো।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুরেতাজ মিয়া। তিনি বিডিনিউজকে বলেন, “কাউসার আহমদ মসজিদের খতিব আব্দুস সালাম মাদানির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। নামাজ শেষে বেশ কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করি। আমরা এগিয়ে না গেলে তাকে তারা মেরেই ফেলতো।”

প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান সিরাজ বলেন, “হামলার সময় কাউসার আহমদকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা না দিলে তাকে হয়তো মেরেই ফেলত। আমরা কেউ এটা প্রত্যাশা করিনি। এটা অনেক মুসল্লিই মেনে নিতে পারছেন না।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম মাদানি সাংবাদিকদের বলেন, “এই মসজিদে আমি ২৮ বছর ধরে বয়ান করছি। আমার দিকে কেউ কখনও চোখ তুলে কথা বলেনি। শুক্রবার আল্লামা ইকবালের নামের হল পরিবর্তন করে সূর্য সেনের নামে নামকরণ করার উদাহরণ দেওয়ায় আমার দিকে চোখ তুলে বেয়াদবি করে কাউসার। পরে মুসল্লিরা তাকে মারধর করেন।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আব্দুস সালাম মাদানি সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি বেশ কয়েকবার বিভিন্ন মামলায় কারাভোগ করেছেন। ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল যৌন হয়রানির বিচার না করায় তার মাদ্রাসার এক ছাত্রীর হাতে লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবেদা আফসারি তাকে ডেকে নিয়ে তিরস্কার করেছিলেন।

About

Popular Links