Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অব্যাহত গৃহকর্মী নির্যাতন-হত্যার ঘটনায় এমজেএফ’র উদ্বেগ

সম্প্রতি মগবাজারের একটি হাসপাতালের সামনে ফ্রিজিং ভ্যান থেকে ১০ বছরের শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ০৪:৪৮ পিএম

দেশে অব্যাহতভাবে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি মগবাজারের একটি হাসপাতালের সামনে ফ্রিজিং ভ্যান থেকে ১০ বছরের শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। তাকে গোপনে কবরস্থ করার জন্য ফ্রিজিং ভ্যানে রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে। এই শিশুটিই নির্মম নির্যাতনের একমাত্র শিকার নয়, এরকম নির্যাতন ও নিপীড়ণের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি বছরের শুধু জানুয়ারি মাসেই তিনজন শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনের বয়স ৭ থেকে ১২ এর মধ্যে এবং একজনের বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।

এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে অপরাধীরা ধরা পড়লেও শাস্তি হচ্ছে না। ক্ষমতা খাটিয়ে বা আইনের ফাঁক গলে তারা বেরিয়ে আসছে। ১০ বছরের এই শিশুটিকে এত নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে যে, কোনো সুস্থ মানুষ তা কল্পনাও করতে পারবে না। নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত ৬৯ বছর বয়স্ক ফরহাদ বাধন মৌ যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।”  

এমজেএফ  শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের “গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫” নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে বহুদিন ধরে সরকারের সাথে কাজ করছে। সেই নীতিমালাতে গৃহকর্মীদের সাথে ভালো ব্যবহার, তাদের বেতনভাতা ঠিকমতো পরিশোধ, নির্যাতন না করা, শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা বিধান, ভরণপোষণ, ছুটি ও প্রণোদনাসহ আরও সুবিধার কথা স্পষ্ট করে বলা আছে। বর্তমান বাস্তবতায় এই নীতিমালা থেকে দ্রুত আইন প্রণয়নের জন্য দাবি জানাচ্ছে এমজেএফ। 

এমজেএফ মনে করে, গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনার এতো ভয়াবহ চিত্র হওয়ার পরেও যদি, একটা মামলারও আমরা বিচার আনতে না পারি, তাহলেতো মানুষ ভাববেই যে এই অপরাধের কোনো শাস্তি হয় না। অর্থ-বিত্ত দিয়ে অপরাধ ঢেকে ফেলা যায়। আর এই কারণেই দিনে দিনে গৃহকর্মী নির্যাতন বেড়ে যাচ্ছে। 

শুধু পত্রপত্রিকার মাধ্যমে যেসব ঘটনা আমরা জানতে পারি, বাস্তবে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা আরো অনেক বেশি। সবধরণের পেশাজীবির বাড়িতেই গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনার খবর ছাপা হচ্ছে। 

এমজেএফ “বাংলাদেশের শিশু পরিস্থিতি” নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে লক্ষ্য করেছে, সারাদেশে যত গৃহকর্মী আছেন অধিকাংশই নারী এবং শিশু। যারা ধর্ষণ, হত্যা এবং নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাদের বয়স ১০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। গৃহকর্মীদের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় তারা মামলা করতে চান না বা মামলা করলেও তা চালাতে পারেন না। এর বাইরে তাদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে সালিশের মাধ্যমে মিটমাট করা হয়।

About

Popular Links