Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে বারি বিটি বেগুনের মাঠ দিবস

বিটি বেগুনে কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে খরচ কমে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ০৭:০৫ পিএম

যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে (বারি) উদ্যোগে বিটি বেগুন সম্পর্কিত মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১ মার্চ) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ড. শেখ মো. বখতিয়ার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. বখতিয়ার বলেন, “বিটি বেগুন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন হচ্ছে। এ বেগুনে ফল ও ডগা ছিদ্র পোকার আক্রমণ হয় না। ২০১৪ সাল থেকে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (বারি) উদ্যোগে কৃষকরা বিটি বেগুন চাষের ঝুঁকেছেন। দেশে ২০% সবজি চাষের জমিতে বর্তমানে এই বেগুনের চাষ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বেগুন বাংলাদেশের মানুষের একটি প্রিয় সবজি। বিটি বেগুনের পাতায় পোকা দমনের জন্য ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। বিটি বেগুন বাংলাদেশি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। বেগুনের এই জাতগুলো ক্ষতিকারক কীটনাশকের ব্যবহার যেমন কমায় তেমনি ভালো ফলন দেয়। উৎপাদন খরচ কম ও ভালো ফলন হওয়ায় এর থেকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির কলেজ অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস-এর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ প্রফেসর এবং “ফিড দ্য ফিউচার ইনসেক্ট রেজিস্ট্যান্ট এগপ্ল্যান্ট পার্টনারশিপ” প্রকল্পের পরিচালক ম্যারিসেলিস অ্যাসেভেদো।

তিনি বলেন, “বিটি বেগুন কৃষকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। কারণ এতে কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় এবং এটি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছে। ফলন ভালো হওয়ায় অধিক অ্যায়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।” 

মার্কিন এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “এই জৈব প্রযুক্তি বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।” 

বেগুনের নতুন ও স্থানীয়ভাবে অভিযোজিত জাত উদ্ভাবনের জন্য ফিড দ্য ফিউচার প্রকল্পটি বারি ফিলিপাইনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। 

বীজ পেয়ে চলতি মৌসুমে বিটি বেগুন চাষ শুরু করেন কৃষক হাফিজুর রহমান।  তিনি বলেন, “বিটি বেগুনের চাষ ক্ষেতে ক্ষতিকর কীটনাশক স্প্রের প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে।”

সদর উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের সুজন বলেন, “আমি ১৫ কাঠা জমিতে দেশি বেগুন চাষ করেছি। তাতে ব্যাপক পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। স্প্রে করেও ভালো ফল পাইনি। এখানে দেখলাম বেগুনে কোনো স্প্রে করা লাগবে না। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ কমবে। ফলনও বেশি হবে। আমরা লাভবান হব।”

ইউএসএইড এর ফিড দ্য ফিউচার এর অর্থায়নে ফিড দ্য ফিউচার ইন্সেক্ট রেজিস্ট্যান্ট এগপ্ল্যান্ট পার্টনারশিপ প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।  এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বৈশ্বিক ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তা উদ্যোগ এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাউসার উদ্দিন আহমেদ। এটি সঞ্চালনা করেন ড. নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

About

Popular Links