Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাহাজ কাটার অক্সিজেন উৎপাদন হতো সীতাকুণ্ডের সেই কারখানায়

প্ল্যান্টটিতে প্রতিদিন ২০০-২৫০ বোতল অক্সিজেন রিফিল করা হতো

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৩, ০৯:৩২ এএম

সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদম রসুল (কেশবপুর) এলাকায় সীমা অক্সিজেন অক্সিকো প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

ওই শিল্পে ব্যবহৃত অক্সিজেন উৎপাদিত হতো। এসব অক্সিজেন ব্যবহার হতো জাহাজ কাটার কাজে। সীতাকুণ্ড শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর ও সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টের সুপারভাইজার ছানা উল্ল্যাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

প্ল্যান্টটিতে প্রতিদিন ২০০-২৫০ বোতল অক্সিজেন রিফিল করা হতো বলে জানান সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টের সুপারভাইজার ছানা উল্ল্যাহ। 

তিনি বলেন, “প্রতি সিলিন্ডারে ৯.৪ ঘনমিটার অক্সিজেন থাকে। প্ল্যান্টটিতে আড়াই থেকে তিন হাজার সিলিন্ডার অক্সিজেন মজুত ছিল। চীন থেকে কেমিক্যাল এনে প্রক্রিয়াজাত করে সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভরা হতো। আমাদের উৎপাদিত অক্সিজেন জাহাজ কাটার কাজে ব্যবহৃত হয়।”

সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্ট অক্সিজেন প্রসেসিং করে বোতলজাত করতো উল্লেখ করে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক বলেন, “অক্সিজেনগুলো জাহাজ কাটার কাজে ব্যবহৃত করতো তারা। কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত কমিটি গঠন করেছি আমরা। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের কারণ জানা যাবে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে বিকট শব্দে ওই অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর আগুন লেগে যায়।

বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেঁপে ওঠে। তিন কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি থাকা অনেক ভবন ও স্থাপনার কাচ ভেঙে গেছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে প্ল্যান্টটি। সেইসঙ্গে কারও হাত কারও পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণে প্ল্যান্টের আশপাশের বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে এসব বাড়িঘরের জানালার কাচ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

দুর্ঘটনাকবলিত কারখানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজার হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার। বিস্ফোরণের মাত্রা এতই তীব্র ছিল যে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে উড়ে যাওয়া প্ল্যান্টের লোহার টুকরার আঘাতে আশপাশের বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কারখানা এলাকা। আশপাশের ভবনের কাচ ভেঙে গেছে।

এ বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে উড়ে পড়েছে ধাতব বস্তু। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কদমরসুল বাজারে গিয়ে পড়া এমন দুটি ধাতব বস্তুর আঘাতে নিহত হয়েছেন দুজন।

গত বছরের ৪ জুন সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ ৫১ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আহত হন আরও ২০০ জনের বেশি।

About

Popular Links