Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়া-৩ আসনে রইল না কোনও বিএনপি প্রার্থী

সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করায় বিএনপি প্রার্থী মহিত তালুকদারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ বন্ধ হয়ে যায়

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:৩৮ পিএম

হাইকোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার সুযোগ পাচ্ছেন না ধানের শীষের কোনও প্রার্থী। সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) এ আসনের প্রার্থী আদমদীঘি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মহিত তালুকদারের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশের ওপর চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ চলমান রেখেছেন আপিল বিভাগ। 

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শুনানি করেন, আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও প্রবীর নিয়োগী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। 

এ আদেশের ফলে বগুড়া-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার সহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ছয় প্রার্থী।

বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের আবদুল কাদের জিলানী (টেলিভিশন), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির লিয়াকত আলী (কোদাল), ইসলামী আন্দোলনের শাহজাহান আলী তালুকদার (হাত পাখা), স্বতন্ত্র আফজাল হোসেন (আপেল), স্বতন্ত্র আবদুল মজিদ (ডাব) ও স্বতন্ত্র নজরুল ইসলাম (মটরগাড়ি)।

জানা যায়, মনোনয়ন দাখিলের আগে বগুড়া-৩ আসনে আদমদীঘি উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মহিত তালুকদার ও বগুড়া-৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী শাজাহানপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল পদত্যাগ করেননি। ফলে গত ২ ডিসেম্বর বাছাইকালে বগুড়ার রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ তাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। 

পরে তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে সেখানেও তাদের প্রার্থীতা বাতিল হয়। প্রার্থীতা ফিরে পেতে ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আবেদন করেন ওই দুই প্রার্থী। হাইকোর্ট গত ৯ ডিসেম্বর আলাদা রিটের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। নির্বাচন কমিশন পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।

বগুড়ার জ্যেষ্ঠ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ্ জানান, সোমবার বিকাল পর্যন্ত আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কোনও চিঠি আসেনি। চিঠি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বগুড়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল মহিত তালুকদার জানান, তিনি উচ্চ আদালতের আদেশ শুনেছেন। দলের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে, বগুড়া-৭ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরকার বাদল ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, বগুড়া-৩ আসনে বিএনপি হাইকমান্ড সাবেক এমপি, যুদ্ধাপরাধ মামলায় পলাতক আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা, তার স্ত্রী মাছুদা মোমিন ও ভাই আবদুল মহিত তালুকদারকে মনোনয়ন দেন। বাছাইকালে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে না যাওয়ায় মহিত তালুকদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। হাইকোর্টের নির্দেশে মহিত তালুকদার প্রার্থীতা ফিরে পেলে দল থেকে মাছুদা মোমিনকে সরিয়ে মহিত তালুকদারকে প্রার্থী করে। ফলে ওই আসনে তিনি (মহিত) বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হন। 

এদিকে, সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করায় মহিত তালুকদারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে বগুড়া-৭ আসনে সরকার বাদল হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থীতা ফিরে পেলেও বিএনপির হাইকমান্ড গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগকারী মোরশেদ মিল্টনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়। 

About

Popular Links