Thursday, June 13, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাতক্ষীরায় হঠাৎ টর্নেডোর আঘাতে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, জেলে নিখোঁজ

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টর্নেডো আঘাত হানে, যার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র এক মিনিট। এতে বিধ্বস্ত হয়েছে দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৩, ১২:০৯ এএম

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর, কৈখালী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে হঠাৎ আঘাত হেনেছে টর্নেডো। এতে তিন ইউনিয়নের কালিঞ্চি, পূর্ব কৈখালী, বোসখালী, পশ্চিম কৈখালী, টেংরাখালী ও পারশেখালী গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছপালা। এ সময় কৈখালী ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের রুহুল কুদ্দুস নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টর্নেডো আঘাত হানে, যার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র এক মিনিট। এতে বিধ্বস্ত হয়েছে দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। আরও শতাধিক আধপাকা বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও নিখোঁজ রয়েছেন রুহুল কুদ্দুস নামের এক জেলে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানার জন্য তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মোহন কুমার মণ্ডল জানান, বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রখর রোদ ছিল। হঠাৎ করে চারদিক অন্ধকার হয়ে ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তাণ্ডব এতই বেশি ছিল যে, কাঁচা ঘরবাড়ির দেওয়াল ধ্বসে গেছে। এছাড়া গাছপালা পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের কালিঞ্চী, মধ্যপাড়া, গেটপাড়া, কলোনিপাড়া ও খাসখামারসহ কয়েকটি গ্রামে ৫০টির মত কাঁচা ঘরের দেওয়াল ধ্বসে সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়ে ক্ষেতের ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অসীম কুমার মৃধা জানান, টেংরাখালি, পারশেখালীসহ কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ১৫-২০টি মত ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এছাড়া কিছু ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের বৈশখালি, পশ্চিম কৈখালী ও কাঠামারি এলাকার ৩০টির মতো অস্থায়ী ঘরবাড়ি ঝড়ে উড়ে গেছে। এছাড়া বেশকিছু কাঁচা বাড়ি ধ্বসে পড়েছে। পূর্ব কৈখালী গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রুহুল কুদ্দুস নামের এক জেলে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি ঝড়ের সময় নদীতে মাছ ধরছিলেন বলে জানা গেছে।

শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আক্তার হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আকস্মিক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কয়েকটি ইউনিয়নের দুই শতাধিক কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি ও গাছপালা। প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা যাচাই বাছাই করে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।”

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা জুলফিকার আলী ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, আকস্মিক শুরু হওয়া ঝড়টি কালবৈশাখী। এ ধরনের ঝড় হঠাৎ করে শুরু হয়, পরে আবার থেমে যায়। এসব ঝড়ের তীব্রতা অনেক বেশী থাকে। তবে খুব বেশী ক্ষতি করার আগেই এ ধরনের ঝড় নিঃশেষ হয়ে যায়।

About

Popular Links