Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য না দেওয়ার শর্তে রফিকুলের জামিন

রফিকুল ইসলামের বয়স ২৮ বছর হলেও তাকে ‘শিশুবক্তা’ বলে ডাকেন ভক্তরা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৩, ০৩:১৫ পিএম

ওয়াজ মাহফিলে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার শর্তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চার মামলায় “শিশু বক্তা” হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলামকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ মার্চ) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

আদালতে রফিকুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আশরাফ আলী মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

রফিকুলের কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

গত ১ মার্চ এ মামলার শুনানি শেষে এক আদেশে হাইকোর্ট বলেন, “মামলার এজাহার, তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, চার্জশিট যাচাই-বাছাই করে মাদানীকে জামিন দেওয়ার বিষয়ে আমরা একমত হতে পারিনি। তবে তিনি যদি ওয়াজ মাহফিল বা সভায় রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধী এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী, ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টি করে এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার মুচলেকা দেন, তাহলে আমরা তার জামিন বিবেচনা করতে পারি।”


আরও পড়ুন-  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ‘শিশুবক্তা' রফিকুলের বিচার শুরু


এরই ধারাবাহিকতায় রফিকুল মাদানী হাইকোর্টে মুচলেকা দেন।

২০২১ সালের ৭ এপ্রিল ভোরে রফিকুল ইসলামকে তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা থেকে আটক করে র‌্যাব। ১১ এপ্রিল গাজীপুরের বাসন থানায় মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. সাখাওয়াত হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রফিকুল ইসলাম  ইউটিউব এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন। দেশের সাধারণ মানুষ এসব বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বিভ্রান্ত হয়ে তারা দেশের সম্পত্তির ক্ষতি করছেন।

অন্যদিকে,  গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের কলমেশ্বর এলাকায় একটি কারখানা চত্ত্বরে ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এক ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম। ওই গাছা থানায় র‍্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সেই মামলাটিও বিচারাধীন।

এছাড়া রাজধানীর মতিঝিল থানায় রফিকুলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রয়েছে। মামলায় অভিযোগ, তিনি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার হওয়ায় তাদের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামে। ইসলামি দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার। বয়স ২৮ বছর হলেও আকার-আকৃতির জন্য তাকে “শিশুবক্তা” বলে ডাকেন ভক্তরা।

About

Popular Links