Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্টেশনে টিকিটবহীন যাত্রীদের ভিড়, ঠেকাতে হিমশিম রেলকর্মীদের

টিকিট ছাড়া স্টেশনে আসা যাত্রীদের অধিকাংশই বেসরকারি চাকরিজীবী, পোশাক ও কারখানা শ্রমিক। অনলাইনে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৩, ০৯:৪৯ পিএম

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এবারের ঈদ-উল-ফিতরের ঈদযাত্রায় রেলের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবুও বিনা টিকিটে ভ্রমণের জন্য স্টেশনে ভিড় জমাচ্ছেন টিকিটবহীন যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার এই ভিড় আরও অনেকগুণ বেড়েছে। তাদেরকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন রেলের নিরাপত্তাকর্মী ও টিকিট পরিদর্শকরা।

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব যাত্রী অনলাইনে টিকিট পেয়েছেন, তারা নির্বিঘ্নেই স্টেশনে প্রবেশ করতে পারছেন। তবে ফিরে যেতে হচ্ছে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করতে আসা যাত্রীদের। স্টেশনের মাইকেও বারবার বিনা টিকিটের যাত্রীদের ফিরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছিল।

রেলের কর্মীরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, টিকিট ছাড়া স্টেশনে আসা যাত্রীদের অধিকাংশই বেসরকারি চাকরিজীবী, পোশাক ও কারখানা শ্রমিক। অনলাইনে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। ফলে অগ্রিম টিকিট কাটতে পারেননি তারা।

রাজধানী থেকে নিজ বাড়ি জামালপুর যাবেন পোশাক শ্রমিক শফিক। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনলাইনে কীভাবে টিকিট কাটতে হয় আমি জানি না। সকালে ছুটি পাইছি। ভাবছি ছাদে কইরা যদি যাওন যায়।”

আলিফ হোসেন নামের অন্য এক যাত্রী বলেন, “মা-বোনেরা বাসে যাতায়াত করতে পারেন না। আমরা সব সময় ট্রেনেই যাতায়াত করি। এবার অনলাইনে টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি, কিন্তু টিকিট পাইনি। তবুও চেষ্টা করতে আসছি, যদি যাওয়া যায়।”

এ সময় তাকে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেনার জন্য পরামর্শ দেন বাদল নামে এক টিকিট পরিদর্শক। তিনি বলেন, “আজ যারা আসছেন তাদের অধিকাংশই এইভাবে যাতায়াত করেন। তারা ওই চিন্তা থেকেই এখন এসে ভিড় করছেন। কিন্তু এবার সেই সুযোগ নেই।”

স্টেশনের মাইক থেকে বারবার অনুরোধ কর হচ্ছিল টিকিটবিহীন যাত্রীদের স্টেশন ছেড়ে চলে যেতে/ সংগৃহীত

এদিকে স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন টিকিটবহীন যাত্রীরা। টিকিট মিলবে কি-না তারও কোনো নিশ্চয়তাও নেই। কারণ এবার রেল থেকে মাত্র ২৫% স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সেটাও যাত্রার দিনে।

স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্য ঘণ্টাখানেক ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন পিয়ার আলি মুন্সি। তিনি নারায়ণগঞ্জের মদপুর থেকে এসেছেন। টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রেল কি এতোগুলো মানুষকে ফিরায়া দিতে পারবে? তাদের তো একটা বিবেচনা আছে। একটা না একটা ব্যবস্থা করে যাইতে তো হবেই।”

ফরহাদ হোসেন নামের অন্য এক যাত্রী বলেন, “পৌনে এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কাউন্টার থেকে কয়েকটা টিকিট বিক্রি করে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বলে আর টিকিট নাই। এরপর রেলের লোকজন এসে লাইন ভেঙে দিছে। এখন দেখি কী করা যায়।”

এদিকে স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্য পুরো স্টেশন লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। চাপ সামাল দিতে রেল পুলিশসহ আনসার সদস্যরা হিমসিম খাচ্ছিলেন। স্টেশনের মাইক থেকে বারবার অনুরোধ কর হচ্ছিল টিকিটবিহীন যাত্রীদের স্টেশন ছেড়ে চলে যেতে।

এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারওয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিকেলের পর থেকেই মানুষ ভিড় বেড়েছে। তাদের অধিকাংশই বিনা টিকিটের যাত্রী। যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেনি তাদের জন্য আমরা একটি ট্রেনের ২৫% স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা রেখেছি। এতে ১৫০ জনের মতো দাঁড়িয়ে যেতে পারবে। কিন্তু টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছে ৫০০ থেকে হাজার লোক। এটা তো একটা বড় চাপ। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে। তারা বিষয়টি ম্যানেজ করছে।”

About

Popular Links