Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কারো প্রতিদিন ‘ঈদ’, অনেকের শুধু ঈদের দিন

গবেষণা বলছে, এক লাখ টাকা চার সদস্যের সাধারণ অনেক পরিবারের পাঁচ মাসের খরচ। স্বর্ণে মোড়ানো এক কেজি জিলাপির দামেও মিটতে পারে বহু মানুষের কিছু দিনের ক্ষুধা

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৩, ১১:২৮ এএম

কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন “জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ/ মুমুর্ষ সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?” আবার ঈদের আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ। তবে সবার কাছে সে আনন্দ কি একরকম?

১৬ অক্টোবর সারা বিশ্বে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করা হয়। ২০২২ সালে এই দিনকে সামনে রেখে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডাব্লিউএফপি। সেখানে সারা বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলায় বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের (২০২২) শুরুতে সারা বিশ্বে যেখানে ক্ষুধার্ত মানুষ ছিল ২৮ কোটি ২০ লাখের মতো, অক্টোবরে এসে সেই সংখ্যাটা ৩৪ কোটি ৫০ লাখে ঠেকেছে।

করোনাভাইরাস মহামারির পর ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী ধাক্কায় বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত তখনও বাংলাদেশে কেউ কেউ ২০ হাজার টাকা দিয়ে সোনায় মোড়ানো এক কেজি জিলাপি কিনেছেন। কেউ এক লাখ টাকা দিয়ে খেয়েছেন এক কাপ আইসক্রিম।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এক লাখ টাকা চার সদস্যের সাধারণ অনেক পরিবারের পাঁচ মাসের খরচ। স্বর্ণে মোড়ানো এক কেজি জিলাপির দামেও মিটতে পারে বহু মানুষের কিছু দিনের ক্ষুধা।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, দেশে একটা গোষ্ঠীর হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ চলে গেছে এবং সে কারণেই ২০ হাজার টাকা কেজির জিলাপিও শেষ হয়ে যায় হু হু করে। এক লাখ টাকা দামের আইসক্রিমও শেষ হতে তেমন সময় লাগে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, ঢাকায় চারজনের একটি পরিবারের মাসিক সাধারণ খাওয়ার খরচ ২২ হাজার টাকার মতো। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারকে এখন মোট আয়ের ৬০% খরচ করতে হয় সাধারণ খাদ্যের পেছনে। মাছ-মাংস খাদ্য-তালিকা থেকে বাদ দিলে খরচ বেশ কমে যায়। তখন চার সদস্যের একটি পরিবারের খাদ্যপণ্যের পেছনে খরচ দাঁড়ায় সাত হাজার ১৩১ টাকা। এই টাকা জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ।

স্বর্ণে মোড়ানো জিলাপি / ফেসবুক

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারে অভিযান চালাচ্ছে নিয়মিত। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গুলশানে “ভাসাবি”তে অভিযান চালানো হয়। ভোক্তা অধিকারের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

তিনি বলেন, “এবারই আমরা কাপড়ের দোকানে অভিযান চালিয়েছি। ভাসাবিতে গিয়ে আমরা দেখলাম ৮৫ হাজার টাকায় তারা একটা লেহেঙ্গা বিক্রি করছে। তারা আমাদের জানালো, এটি ইন্ডিয়া থেকে এনেছে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখেও কাগজ দেখিয়ে বোঝাতে পারেনি যে কত টাকায় সেটা আমদানি করেছে। আমরা ধারণা করেছি, লাগেজ পার্টির মাধ্যমে তারা এটি এনে বিক্রি করছে। এ জন্য আমরা তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা করেছি।”

সম্প্রতি তারা এক কাপড়ের দোকানে গিয়ে ২২ হাজার টাকা দামের শার্ট পেয়েছেন। থাইল্যান্ডের ওই শার্টেরও নাকি প্রচুর ক্রেতা।

মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে এক সবজির দোকানের কর্মচারী আহমদ উল্লাহর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলছিলেন, “প্রতিদিন রাতে সবজির বস্তা টেনে ৪০০-৫০০ টাকা পাই। এর মধ্যে কাজের সময় নিজের খাওয়ার জন্যই ১০০ টাকার মতো খরচ হয়ে যায়। বাকি টাকা দিয়ে সংসার চলবে কীভাবে? এর মধ্যে ঈদ তো আমাদের জন্য সাধারণ একটা বিষয়।”

অর্থনৈতিক সংকটে অনেক দেশের যখন নাজেহাল অবস্থা, তখন বাংলাদেশে কিছু মানুষের ব্যয়োৎসব প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমাদের দেশে যে উন্নতিটা হচ্ছে, সেটা পুঁজিবাদী ধরনের উন্নতি। এতে অল্প মানুষের উন্নতি হবে, মুনাফা পাবে। আর বেশিরভাগ মানুষ যারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত, তারা বঞ্চিত হবে। ঐ বৈষম্যটাই সর্বত্র দেখা যায়। ঈদের সময়ও ঐ চিত্র ভালোভাবে দেখা যায়। এখন মসজিদে নামাজ পড়ার সময় বাইরে ভিক্ষার জন্য বহু মানুষ অপেক্ষা করেন। জামা-কাপড়ের ব্যাপারে দেখা যাবে, চলাফেরার ক্ষেত্রেও দেখা যাবে বৈষম্যটা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।”

পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সম্প্রতি ২০ হাজার টাকায় এক কেজি দরে সোনায় মোড়ানো জিলাপি খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাবলিক রিলেশন অফিসার সেইতা বলেন, “আমরা এপ্রিলের শুরুতে বিশেষ এই জিলাপি বিক্রি শুরু করি। এই বিশেষ ধরনের জিলাপি কিনতে আগে থেকে যারা অর্ডার করেছিলেন, তাদেরকে দেওয়ার পর এটি সোল্ড আউট হয়ে যায়। জিলাপি বানানোর জন্য যে পরিমাণ উপকরণ (খাওয়ারযোগ্য সোনা, ফয়েল পেপার) বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছিল তা শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আর অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না। পুরো রমজান মাস জুড়েই এই জিলাপি বিক্রির প্রস্তুতি আমাদের ছিল। কিন্তু সেটা ৭ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।”

কী পরিমাণ জিলাপি বিক্রি হয়েছে সেই তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন এই কর্মকর্তা।

ডয়চে ভেলে

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে সোনায় মোড়ানো আইসক্রিমের ক্ষেত্রে। ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল সারিনা এনেছিল এই সোনায় মোড়ানো আইসক্রিম। ২০২২ সালের ১৭ জুলাই সারিনার ফেসবুক পাতায় একটি পোস্টে বলা হয়, “ঢাকার সবচেয়ে দামি আইসক্রিম পাওয়া যাচ্ছে ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকায়।”

পোস্টের সঙ্গে কাঁচের ছোট বাটিতে সোনায় মোড়ানো আইসক্রিমের ছবিও দেওয়া হয়। মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। “গোল্ডেন আইসক্রিম” নিয়ে হোটেল সারিনার মার্কেটিং বিভাগের সহকারী পরিচালক সৈয়দ মেহরান হোসেন তখন বলেছিলেন, “সাত দিনের মধ্যেই আমাদের ‘ওভারবুকড' হয়ে যায়। ফলে পরে আর অর্ডার নেইনি। এই আইসক্রিম তৈরিতে দুবাই থেকে আনা ‘সোনালি পাতা' বা ‘গোল্ড লিফ' শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন অর্ডার তারা নিতে পারেনি।”

মেহরান হোসেনও হোটেল কর্তৃপক্ষের “নিজস্ব নীতি”র কথা বলে কতগুলো আইসক্রিম বিক্রি হয়েছে তা জানাননি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে সেটা তো পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা জরিপেও উঠে এসেছে। দেশে গড় আয় বাড়ছে, কিন্তু একটা শ্রেণি এই সুযোগ বেশি নিচ্ছে। এখানে সম্পদ-বৈষম্যও অনেক বাড়ছে। আয়-বৈষম্য ও সম্পদ-বৈষম্য বাড়ার ফলে এখানে ভোগ-বৈষম্যও বাড়ছে। তাছাড়া এক শ্রেণির মানুষ ব্যাংকের টাকা লুট করে, ঋণ খেলাপি, কর খেলাপি হয়ে, দেশের সম্পদ বাইরে নিয়ে অনেক টাকার মালিক হয়েছে। তাদের এই অসৎ পথে আয়ের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও লাগামহীন প্রবণতা দেখি। তাদের ভোগের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক প্রবণতা দেখি।”

বুধবার চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ের “রাজস্থান” আউটলেটে দুই হাজার টাকার পাঞ্জাবি ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। ঈদের বাজারে ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। “রাজস্থান” সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দেশীয় পাঞ্জাবি বেশি দামে বিক্রি করছিল। চট্টগ্রাম শহরে তাদের ১৭টি আউটলেট রয়েছে। দেশি একটি পাঞ্জাবি মাত্র ২ হাজার টাকায় তারা কিনে বিক্রি করছিল ১৩ হাজার টাকায়। এমন অসংখ্য পাঞ্জাবি পেয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, “দেশে কিছু মানুষের হাতে ‘ইজি মানি' চলে এসেছে। যারা ব্যাংকের টাকা লুট করেছে তাদের হাতে অঢেল টাকা। হার্ড ওয়ার্কিং মানি দিয়ে ২০ হাজার টাকা কেজি জিলাপি কেনা সম্ভব না। দেশে দুর্নীতি দমনে তো কাজ হয় না। এরা দুর্নীতি ধরে না। কেরানিদের ধরে। বড়দের ধরে না।"

তিনি আরও বলেন, “আমি ৫ বছর আগে স্টাডি করেছিলাম। সেখানে দেখেছি, একক ইনকামে সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে পারবে না, অথচ আপনি গিয়ে দেখেন সেখানে ভর্তির লোকের অভাব নেই। তারা কীভাবে পড়াচ্ছে? এটা অসভ্যের দেশ। আমাদের আরও ৩০ বছর লাগবে উঠতে৷।”

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাব ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী মন্দা চলছে। দেশের মূল্যস্ফীতি ৬% থেকে প্রায় ১০%-এ উন্নীত হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট হচ্ছে সমাজের মধ্যবিত্তরা। এমন এক সময়েই দেশের দারিদ্র কমেছে বলে তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। তবে দারিদ্রের হার কমলেও ছয় বছরে পরিবার প্রতি খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

গত মার্চে প্রকাশ করা রিপোর্টে বিবিএস বলেছে, পরিবার প্রতি খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। সর্বশেষ যখন ২০১৬ সালে হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে (এইচআইইএস) করা হয় তখন দেশে পরিবার প্রতি খরচ ছিল ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা। বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, মানুষের মধ্যে আয় বৈষম্য আগের চেয়ে বেড়েছে।

অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক বলেন, “আমরা দেখেছি, যেখানে গণতন্ত্রের অভাব সেখানে বৈষম্য বেশি। গণতন্ত্র কম হলে দুর্নীতি বাড়ে। আর দুর্নীতি বাড়লে বৈষম্য বাড়ে। একটা শ্রেণির অবৈধ টাকা বেড়েছে। তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের ব্যবসার সম্পর্ক আছে। ফলে তারা বিপুল টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন। তারা সরকারের ট্যাক্স দিচ্ছে না। ফলে তাদের টাকা দিন দিন ফুলে ফেঁপে উঠছে। আপনি গণতন্ত্রকে ঠিক করেন, দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।”

নুরুন্নাহার বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তিন বাড়িতে কাজ করে পান ৯ হাজার টাকা। তার স্বামী রিকশা চালান। তবে তিনি নুরুন্নাহারের সঙ্গে থাকেন না। কোনো খরচও দেন না। বিধবা মা আর দুই মেয়েকে নিয়ে নুরুন্নাহার থাকেন শেওড়াপাড়া এলাকায়। তার মা-ও মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। মা-মেয়ের উপার্জন দিয়ে কোনোমতে দিন চলে যায়। তবে বিপত্তি বাধে মেয়েদের স্কুলের বেতন আর পরীক্ষার খরচ দেয়ার সময়। নুরুন্নাহারের বড় মেয়ে মিম এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। ৩০ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হবে। ছোট মেয়ে পড়ে ক্লাস ফাইভে।

আইসক্রিম কেনার জন্য এক লাখ টাকা দূরে থাক, সেই জিলাপির ২০ হাজার টাকাও একসঙ্গে দেখা নুরুন্নাহারের কাছে স্বপ্নের মতো। ২০ হাজার টাকা পেলে কী করতেন-জানতে চাইলে নুরুন্নাহার বলেন, “বড় মেয়ের এসএসসির ফরমফিলাপের সময় অনেকগুলো টাকা ধার করেছি। আগে সেই টাকা শোধ করবো। এরপর এক কেজি গরুর মাংস কিনবো। অনেকদিন হলো মেয়েদের মাংস খাওয়াতে পারিনি। নিজেদের জন্য কিছু পোশাকও কিনবো। আর ঈদে কিছু ভালো খাবার কিনবো। রান্না করার কিছু জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো কিনবো। এগুলো আমার জন্য খুব দরকার। কিন্তু কোনো মাসেই বাড়তি টাকা থাকছে না যে, সেই টাকা দিয়ে এগুলো কিনবো।”

সকাল ৬টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৬ ঘণ্টার মতো দায়িত্ব পালন করে রনি বুনাজি বেতন পান ১২ হাজার টাকা। শেওড়াপাড়ায় এইচআর সিকিউরিটি কোম্পানির মাধ্যমে একটি বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করছেন তিনি।

এক লাখ টাকা পেলে কী করতেন-  জানতে চাইলে রনি বুনাজি বলেন, “আমার দুই মেয়ে আর এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ে আর ছেলেকে নিয়ে আমার স্ত্রী হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে থাকেন। নিজেদের কোনো জায়গা নেই।”

জানালেন, অন্যের দেওয়া জমিতে ঘর তৈরি করেন থাকেন তারা। ১৫ বছর বয়সি ছেলে চুনারুঘাটের একটা দোকানে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করে মাসে ৬ হাজার টাকা পায়।

রনি বুনাজি বলেন, “আমি যদি এক লাখ টাকা পাই, তাহলে সেই টাকা দিয়ে ছেলেকে একটা দোকান করে দেবো। তাহলে আমাদের সংসারটা চলতে অসুবিধা হবে না। আমি প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা পাঠাই, তার সঙ্গে ছেলের টাকা মিলিয়ে আমার স্ত্রী ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোনোমতে সংসারটা চালায়।”

About

Popular Links