Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মদ্যপ ছিলেন প্রাইভেট কারের সেই তরুণ–তরুণী

বেপরোয়াভাবে রিকশা-মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেওয়া প্রাইভেট কারে চালকের পাশের আসনের পা রাখার জায়গায় অচেতন অবস্থায় ছিলেন তরুণী

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৩৩ এএম

রাজধানী ঢাকার মালিবাগ এলাকায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে রিকশা ও মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে আটক চালক এবং ওই গাড়িতে থাকা অচেতন তরুণী মদ্যপ ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাও দিয়েছে পুলিশ। তবে, সে মামলায় সোমবার (২৫ এপ্রিল) জামিন পেয়েছেন ওই তরুণ-তরুণী।

এর আগে, রবিবার রাতে রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজল সাহা বাদী হয়ে ওই তরুণ–তরুণীদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই তরুণ–তরুণী মদ পান করে অপ্রকৃতিস্থ ছিলেন। তরুণটি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তারা পথচারীদের প্রতি মারমুখী আচরণ করেন।

ওই মামলায় দুজনকে সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেছিল পুলিশ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়। ঢাকার আদালতসংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে। রামপুরা থেকে মালিবাগের পথে আসছিল একটি কালো প্রাইভেটকার। পথিমধ্যে বেপোরায়াভাবে একটি মোটরসাইকেল ও একটি রিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয় সেটি। আশেপাশের লোকজন গাড়িটি থামতে বললেও সেটি না থেমে এগোতে থাকে। তবে চৌধুরীপাড়া মোড়ে এসে যানজটের কারণে সেটি আটকা পড়ে।

এ সময় পেছন থেকে অনেকেই জোরে বলতে থাকেন “গাড়িটিকে আটকান, ড্রাইভারকে ধরুন'। গাড়িটিকে আটকানো হয়। তখন গাড়ির মধ্যে চুপচাপ বসে ছিলেন তরুণ চালক। পরে দেখা যায় তার পাশের আসনের পা রাখার জায়গায় অচেতন হয়ে পড়ে আছেন এক তরুণী। সেই তরুণীর কোনো সাড়াশব্দ নেই।

আশেপাশের লোকজন তখন চালকের কাছে ওই তরুণীর অচেতন হওয়ার কারণ জানতে চান। তবে তিনি উত্তর না দিয়ে ওই তরুণ মেয়েটির মুখ ঝাঁকিয়ে বারবার বলতে থাকেন, “জান গেট আপ প্লিজ। জান গেট আপ।” বারবারই তিনি মেয়েটির মুখ ধরে ওঠানোর চেষ্টা করছিলেন। প্রতিবার একই কথা বলছিলেন। কিন্তু মেয়েটির কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। এর মধ্যে একসময় পুলিশ সেখানে চলে আসে। মেয়েটিকে বের করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি গাড়িসহ চালককে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “মাতাল অবস্থায় আটকের পর তরুণ-তরুণীকে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাদের নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুজনে মদ পান করার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পরীক্ষায় ওই তরুণ–তরুণীর মদ্যপানের প্রমাণ পেয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। 

রামপুরা থানার ওসি জানান, ওই তরুণ-তরুণী রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

About

Popular Links