Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দাওয়াত না দেওয়ায় ফরিদপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা

বিয়ের অনুষ্ঠানে না পেয়ে যাত্রাবাড়ী গ্রামের কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ ছিলেন

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৯:৫০ পিএম

দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সদরপুরে একটি বিয়েবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের সদস্য পূর্ব শৈলডুবি গ্রামের বাসিন্দা এখলাস আলী ফকির (৪৫), কনের বাবা বাবুল মাতুব্বর (৫৫) ও খালু বেলায়েত হোসেন (৫৩)।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৈলডুবি গ্রামে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আব্দুল লতিফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের নাতনির বিয়ে উপলক্ষে দুপুরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ২টার দিকে ওই বাড়িতে ৮-১০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আহত এখলাস আলী ফকিরকে প্রথমে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে কনের বাবা বাবুল মাতুব্বর ও খালু বেলায়েত হোসেনকে কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

সূত্র জানায়, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের বাড়িতে তার নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠানে পাশের যাত্রাবাড়ী গ্রামের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে যাত্রাবাড়ী গ্রামের কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে হামলার মধ্য দিয়ে।

কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কৃষ্ণপুরে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধে এখলাস আলী ফকির আখতারুজ্জামানের সমর্থক ছিলেন।

চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান জানান, জেলা পরিষদ সদস্য এখলাস ফকির তার সমর্থক। তিনি তিনটি ইটভাটার মালিক। দুর্বৃত্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তবে আজকের ঘটনার সূত্রপাত দাওয়াত না দেওয়ার ক্ষোভ থেকে।

তিনি বলেন, “এখলাসের ওপর হামলাকারীরা সবাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের সমর্থক।”

তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকির ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি বর্তমানে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পূর্ব শৈলডুবি গ্রামে হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন।

তার দাবি, “আমার লোকজন ওখানে যাবে কেন, আমার লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।”

সদরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার বলেন, “বিয়ের অনুষ্ঠানে যাত্রাবাড়ীর কাউকে দাওয়াত না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় বরপক্ষ খাওয়া-দাওয়া করছিল। হামলার পর তারা দ্রুত কনে নিয়ে চলে যায়।”

ওসি বলেন, “এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

About

Popular Links