Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কৌটায় মিলবে ইলিশ, পাওয়া যাবে বছরজুড়ে

কৌটাজাতকরণের মাধ্যমে ইলিশ ও টুনা মাছ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। বর্তমানে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণের জন্য অধিকতর গবেষণা চলছে

আপডেট : ০৮ মে ২০২৩, ০৯:২৫ পিএম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর মাছ কৌটাজাত করে বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশে কৌটাজাত মাছ বিক্রির প্রচলন না থাকলেও ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে কৌটায় ইলিশ ও টুনা সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি বের করতে কাজ করছেন।

কৌটায় ইলিশ ও টুনা মাছ সংরক্ষণের গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী আহসান হাবীব। সহ-গবেষক হিসেবে রয়েছেন ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া মৎস্য অধিদপ্তরের  “সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ” প্রকল্প থেকে দেওয়া অনুদানে করা এ গবেষণায় তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি দলও রয়েছে।

গবেষকরা জানান, কৌটাজাতকরণের মাধ্যমে ইলিশ ও টুনা মাছ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। বর্তমানে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণের জন্য অধিকতর গবেষণা করা হচ্ছে। গত বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এ গবেষণার কাজ পুরোপুরি শেষ হতে কমপক্ষে আরও ছয় মাস প্রয়োজন। কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন সাপেক্ষে কৌটায় করে ইলিশ মাছ বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণার জন্য পাওয়া এক কোটি টাকার মধ্যে অর্ধেক অর্থ গবেষণায়, বাকিটা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হচ্ছে। প্রশিক্ষণের জন্য কক্সবাজারে ১০ সদস্যের তিনটি দল নির্বাচন করা হয়েছে।

গবেষক দলের প্রধান কাজী আহসান হাবীব বলেন, “বেশি সময় ধরে মাছ সংরক্ষণে সফল হলে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হবে। আশা করি, সংরক্ষণের সময় বাড়াতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের কাজ ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে।”

গবেষকরা জানান, কৌটায় মাথা ও লেজ না দিয়ে এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে যেন মাছের টুকরো না ভেঙে যায়। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর কাঁটা এত নরম হবে যে তা খেতে সমস্যা হবে না। মাছ কৌটা খুলেই খাওয়ার উপযোগী হলেও ভালো স্বাদ পেতে চাইলে ২-৩ মিনিট গরম করে নিতে হবে। স্বাদের বৈচিত্র্যের জন্য মাছে মসলাও দেওয়া থাকবে।

কাজী আহসান হাবীব বলেন, “গবেষণা সফল হলে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কাছে এ মাছ বাজারজাতকরণের জন্য অনুমোদন চাওয়া হবে। অনুমোদন পেলে বাজারজাত করা হবে।”

গবেষণার জন্য বিদেশ থেকে আনা কৌটাগুলোয় প্রায় ২০০ গ্রাম মাছ রাখা যাবে। কৌটাজাত চার টুকরো ইলিশের দাম আনুমানিক ৩২০ টাকা পড়বে। আর কৌটাজাত টুনার জন্য গুণতে হবে ১৮০-২০০ টাকা।

মৎস্য অধিদপ্তরের “সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ” প্রকল্পটি আগামী বছরের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটির উপ-পরিচালক মনীষ কুমার মণ্ডল বলেন, “এ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি গবেষণা প্রকল্পে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর একটির আওতায় কৌটায় ইলিশ ও টুনা সংরক্ষণে গবেষণাকাজ চলছে।”

এ প্রকল্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরামর্শক বলেন, “কৌটায় মাছ প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়টি ইতিবাচক। এতে দীর্ঘদিন মাছ সংরক্ষণ করা যাবে। রান্নার ঝামেলা থাকবে না। এ ক্ষেত্রে টুনা বেশি উপযোগী। কারণ বঙ্গোপসাগরে এ মাছ প্রচুর পাওয়া যায় এবং দামও কম।”

তিনি আরও বলেন, “দাম কম হওয়ায় টুনা দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে বাজারে ইলিশের দাম এমনিতে বেশি। ফলে ইলিশ কতটা জনপ্রিয় হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।”

About

Popular Links