Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতা বাড়াতে সরকারের প্রতিশ্রুতি

আপডেট : ১১ মে ২০২৩, ০৪:৪৩ পিএম

সর্বস্তরের জনগণকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। পাশাপাশি সেবার সম্প্রসারণ, সম্পদ বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা জোরদারের অঙ্গীকার এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (১১ মে) ‘‘স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতা বৃদ্ধি'' শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নতুন করে এই প্রতিশ্রুতি দেন। 

তিনি বলেন, সমগ্র জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং আমরা আমাদের সরকারের প্রথম দিন থেকেই তা পূরণের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে যা করেছি তা ছাড়াও আমরা অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবার একটি প্রয়োজনীয় প্যাকেজের সরকারি বিধানসহ বাড়তি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। যাতে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারি। প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোর একটি পূর্ণ প্যাকেজ (ইএসপি) প্রণয়ন, স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদ পূরণ করা, শহুরে এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যবস্থা করাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দেন, যাতে স্বাস্থ্যখাত সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।

ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, বিশ্বব্যাংক, সূচনা ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন এবং লন্ডনের চ্যাটাম হাউসের মতো বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিটি পদক্ষেপে প্রদত্ত সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর, বিশেষ করে ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর প্রশংসা করেছে। 

মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব তার স্বাগত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এটি একটি সময়োপযোগী আয়োজন, কারণ আমরা স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আমাদের পরবর্তী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি প্রস্তুত করছি এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইউএইচসি সম্পর্কিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে চ্যাটাম হাউস কমিশন অন ইউনিভার্সাল হেলথ-এর কো-চেয়ার হেলেন ক্লার্ক। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের সদস্য ও যুব নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

হেলেন ক্লার্ক তার বক্তৃতায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, বিস্তৃত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ক্রমবর্ধমান সরকারি বিনিয়োগ একটি স্বাস্থ্যবান জনগোষ্ঠী ও একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি নিশ্চিতের লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সাশ্রয়ী ও ন্যায়সঙ্গত বিনিয়োগ।

স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের নেটওয়ার্কের জন্য, সব শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনতে এবং কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা ও টিকাদানে সাম্প্রতিক সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রানা এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট। 

ইয়েট বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশু ও পরিবারগুলোসহ সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। সবাইকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা গেলে তা দেশগুলোকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পদ ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ করে দেয়, আর এ সম্পদ হচ্ছে মানব পুঁজি।

About

Popular Links