Friday, June 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী: দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনাবাহিনী কাজ করবে

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান 

আপডেট : ১৩ মে ২০২৩, ০৩:৫৩ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় “মোখা” দেশের উপকূল থেকে মাত্র ৭৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ বেড়ে ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এই গতিতে এগোতে থাকলে শনিবার (১৩ মে) সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজার ও আশেপাশের উপকূলীয় এলাকায় “মোখা”র অগ্রভাগের প্রবল প্রভাব পড়তে শুরু করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইতোমধ্যে ঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঢাকাসহ প্রায় সারাদেশে। ঝড় যত এগোবে ততই দেশের আকাশে এর প্রভাব বাড়তে থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে সব বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

শনিবার (১৩ মে) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কক্সবাজারের ১৬০০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৪ টন শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত এবং চট্টগ্রাম ও পায়রাবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

তবে এই ঘূর্ণিঝড়টির এখন আর সুপার সাইক্লোন হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজ সকাল থেকে বাতাসের গতিবেগ কমে এসেছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ লক্ষ্য করে কক্সবাজারকে ১০ (দশ) নম্বর, চট্টগ্রাম এবং পায়রাবন্দরকে ৮ (আট) নম্বর এবং মোংলা বন্দরকে ৪ (চার) নম্বর বিপৎসংকেত দেওয়া হয়েছে।”

 তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ছয় থেকে ৯ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এছড়াও ভোলা ও বরগুনায় ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।”  

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ কমে এখন ১৫০ থেকে ১৬০ হয়েছে। এখন এটাকে এখন অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বলা হয়েছে।

এদিকে, শনিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত “মোখা” উত্তর- উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ সকালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। 

এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে আগামীকাল ১৪ মে সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে কক্সবাজার-উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ১৩ মে সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজার ও আশেপাশের উপকূলীয় এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় “মোখা”র অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।

About

Popular Links