Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুষ্টিয়ায় হাতপাখার বাতাসও এখন সস্তা না

কিছুদিন আগেও যে তালপাতার পাখা বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায় এখন সেটি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৩, ০৫:৪০ পিএম

কুষ্টিয়ায় তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন। এমন হাঁসফাঁস করা গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে তালপাতার পাখার কদর বেড়েছে কুষ্টিয়ায়। বর্ধিত চাহিদার কারণে দামও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। গরম আর লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় ১৫-২০ টাকার হাতপাখা প্রকারভেদে ৫০-৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ এবং তালপাতা দিয়ে তৈরি হাতপাখা কেনার জন্য দোকানগুলোতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। প্রচণ্ড গরমে শান্তির পরশ পেতে তালপাতার পাখা ভালো অনুষঙ্গ।

তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে পাখার মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

পাখা বিক্রেতা জুয়েল রানা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে তালপাতার পাখার চাহিদা বেড়েছে। বাজারে পাখার কিছুটা সংকট রয়েছে। সব মিলিয়ে দাম বেড়েছে। কয়েকদিন আগে যে পাখা ২০ টাকা ছিল, সেই পাখা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি।”

তিনি বলেন, “আমরা ব্যবসা করি লাভের জন্য। বেশি দামে কিনেছি, এজন্য বেশি দামে বিক্রি করছি। পাখার চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। অনেক দোকানে পাখা নেই। কারিগররা এখন দিনরাত সমান তালে পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত। আগে ১০-১২ টাকা করে কিনতাম আর এখন ৩৫-৪০ টাকায় পাইকারি কিনে খুচরা বিক্রি করি।”

মুনমুন খাতুন নামে এক ক্রেতা বলেন, “কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী আমি। গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে ৬৫ টাকা দিয়ে একটা তালপাতার পাখা কিনলাম। বিক্রেতারা চারগুণ দাম বাড়িয়েছে। বাড়তি দাম নেওয়া উচিত না, এগুলো অন্যায়। হুটহাট করে জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনে প্রত্যাশা টেলিকমের মালিক বলেন, “একটা তালপাতার পাখা ৭০ টাকায় বিক্রি করছি। বেশি দামে কিনেছি, এজন্য বেশি দামে বিক্রি করছি। আমরা সীমিত লাভ করি। আমি খোকসা থেকে পাখা কিনে এনেছি।”

কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশনে পাখা বিক্রেতা হবিবুর রহমান বলেন, “আমি রাজার হাট থেকে প্রতি পিস পাখা ৩৬ টাকা মূল্যে কিনেছি। ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করছি। পাখার ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। এজন্য দামও বেড়েছে। কয়েকদিন আগে ১০ থেকে ১৫ টাকা পিস কিনে ২০ টাকায় বিক্রি করতাম। এ বছর গরমের শুরুতেও হাতপাখার চাহিদা এতো ছিল না। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।”

ক্রেতা সবুজ আলী বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে গরমের মধ্যে খুব কষ্ট হয়। গরম থেকে রক্ষা পেতে ৭০ টাকা দিয়ে হাতপাখা কিনলাম। ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের জিম্মি করে পকেট কাটছে। ১৫ টাকার পাখা এখন ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।”

পাখা ক্রেতা ও রিকশাওয়ালা মনিরুল ইসলাম বলেন, “গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় যাত্রী কম। আমাদের পেশায় আয় উপার্জন কমে গেছে। গরমে যাত্রী কম পাওয়া যাচ্ছে। গরম থেকে বাঁচার জন্য একটা তালপাতার পাখা কিনলাম ৬০ টাকা দিয়ে। পাখার দাম প্রায় চারগুণ বেড়েছে।”

About

Popular Links