Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বৃষ্টির পর তাপমাত্রার সঙ্গে কমে গেছে লোডশেডিংও

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশের অনেক এলাকায়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক আছে

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩, ০৭:০৩ পিএম

বিগত কিছুদিন ধরে দেশজুড়ে বয়ে যাচ্ছিল তীব্র তাপপ্রবাহ। তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাবে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। সেই সঙ্গে বাড়তি উপদ্রব হিসেবে যোগ হয়েছিল নিয়মিত বিরতিতে লোডশেডিং। সব মিলিয়ে মানুষের প্রাণ যেন ছিল ওষ্ঠাগত।

তবে দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পর বৃহস্পতিবার (৮ জুন) থেকে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মানুষের মনে স্বস্তি নেমে এসেছে। সারাদেশে বৃষ্টিপাতের পর তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের সার্বিক লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রার সঙ্গে কমেছে বিদ্যুতের চাহিদাও।

ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার (এনএলডি) জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় দেশের কোনো কোনো এলাকা লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে ছিল। এর মধ্যে ঢাকার দুই বিতরণ কোম্পানি কোনো লোডশেডিং করেনি। সারাদেশে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ৭৭২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে।

এছাড়া, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অনেক এলাকায়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।

গত কয়েক দিন ধরে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টিতে ঢাকার সেই তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এছাড়া, বৃষ্টির কারণে দেশের তাপমাত্রা অন্তত ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি কমেছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। পাশাপাশি সরকারের পদক্ষেপে বিদ্যুতের উৎপাদনও কিছুটা বেড়েছে।

ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকায় ডেসকোর ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট এবং ডিপিডিসির ১ হাজার ৫৬৪ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। ঢাকার আরইবি এলাকায় ২ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াটের পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে পিডিবির চাহিদা ছিল ১ হাজার ৭৫ মেগাওয়াট এবং আরইবির চাহিদা ছিল ৪০৯ মেগাওয়াট। চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এনএলডিসি। কোথাও লোডশেডিং হয়নি। লোডশেডিংয়ের আওতায় ছিল না খুলনাও। ওয়েস্টজোন ৫৪৩ মেগাওয়াট এবং আরইবির ১ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটা সরবরাহ করা হয়েছে।

বরিশালে লোডশেডিং ছিল মাত্র ২ মেগাওয়াট। বরিশালে ওয়েস্টজোনে ১৩১ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া, আরইবির ৩৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ৩৬৪ মেগাওয়াট। কুমিল্লায় পিডিবির ৩২৪ এবং আরইবির ১ হাজার ৭৮ মেগাওয়াটের পুরোটা সরবরাহ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহে পিডিবির ৬৬৭ মেগাওয়াটের মধ্যে ৪২৭ মেগাওয়াট সরবরাহ ছিল। লোডশেডিং হয়েছে ৪০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে, আরইবির ৯৯৪ মেগাওয়াটের জায়গায় সরবরাহ হয়েছে ৭২১ মেগাওয়াট। বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ২৭৩ মেগাওয়াট।

সিলেটে পিডিবির ১৯৯ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ ছিল ১৯০ মেগাওয়াট। মাত্র ৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। অন্যদিকে আরইবির ১ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াটের মধ্যে ১ হাজার ৩২৯ মেগাওয়াট সরবরাহ ছিল। পক্ষান্তরে, লোডশেডিং ছিল ২২ মেগাওয়াট।

রাজশাহীতে নেসকোর ৪৮৫ মেগাওয়াট চাহিদার ৪৫৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। মাত্র ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এছাড়া, আরইবির ১ হাজার১৭২ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে ১ হাজার ৪৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। লোডশেডিং হয়েছে ১২৭ মেগাওয়াট।

রংপুরে নেসকোর ৩৫১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৯৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া, আরইবির ৭২৫ মেগাওয়াটের জায়গায় ৫৫২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে।

জানতে চাইলে পিডিবির মুখপাত্র মো. শামীম হাসান জানান, তাপমাত্রা কমার সঙ্গে উৎপাদনও বেড়েছে। এতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে না।

About

Popular Links