Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিশুশ্রম বন্ধে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ এর আহবান

সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি, যুগোপযোগী নীতি নির্ধারণ ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে কোয়ালিশন

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ১২:২৮ পিএম

আজ (১২ জুন) “বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস”। ২০০২ সালে সর্বপ্রথম দিবসটি পালন করা শুরু করে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)।এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য “শিশুর শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করি, শিশুশ্রম বন্ধ করি”। দিবসটি পালনে শিশু ও শ্রমিকদের সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়েছে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন বিষয়ক আইএলও সনদ, ১৯৯৯ (কনভেনশন নং ১৮২), অনুসমর্থন করে। এতে দাসপ্রথা, জোরপূর্বক শ্রম, পাচার এবং বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজসহ সকল ধরনের শিশুশ্রমকে নিষিদ্ধ করার আহবান জানানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার ২০২২ সালে নিম্নতম বয়স সংক্রান্ত আইএলও সনদ (কনভেনশন নং ১৩৮) অনুসমর্থন করে, যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যদিও, শ্রম আইনে এর প্রতিফলন এখনও দেখা যায়নি। ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা হালনাগাদ করা হলেও সেখানে গৃহস্থালির কাজকে অন্তভূর্ক্ত করা হয়নি। গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ প্রণীত হলেও এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো আইন প্রণীত হয়নি। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যার ব্যুরোর ২০১৩ সালের জরিপ মতে, বাংলাদেশে ১৮টি খাতে ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৪ জন শিশু “শিশুশ্রমে”  নিয়োজিত। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০ জন মেয়েশিশু। সবচেয়ে বেশি শিশু উৎপাদন খাতে বা কলকারখানায় কাজ করে, যার সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখ। এছাড়া কৃষি খাতে কাজ করে ৫ লাখ ৭ হাজার শিশু। এসকল শিশুরা দারিদ্র্যতার কারণে লেখাপড়া বাদ দিয়ে নামে মাত্র মজুরির বিনিময়ে কাজে নিয়োজিত হচ্ছে । 

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য মতে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ২টি ঘটনাতে গৃহকর্মীর বয়স ১৪ বছরের নিচে।    

চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ এর  পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুসহ সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ১১, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ , ১৯ এবং ২০-এ শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাসহ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তাই, শিশুদের অধিকার সমুন্নত রাখা, তাদের নিরাপদ পরিবেশ প্রদান এবং তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনের মাধ্যমে এই সকল শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যে সব কাজে জীবনের ঝুঁকি আছে সেসব কাজে শিশুদের নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। 

সংস্থাটি প্রত্যাশা করছে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শিশুশ্রমের অবসান ঘটবে এবং সকল শিশু একটি সুন্দর স্বাভাবিক শৈশব পাবে।

এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীজন, শিশু-কিশোর, অভিভাবক, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি, যুগোপযোগী নীতি নির্ধারণ ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে কোয়ালিশন।

About

Popular Links