Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডেঙ্গুর মৌসুমে ৫০% পর্যন্ত বেড়েছে মশানিধন সরঞ্জামের দাম

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নজরদারির অভাব ও অতি মুনাফার লোভের কারণে মশা নিধনে ব্যবহৃত এসব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩, ০৪:২৯ পিএম

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এরই সুযোগে মাত্র এক মাসের মধ্যে মশা নিধনকারী সরঞ্জামের দাম ৩০-৫০% বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এছাড়া, কয়েকটি পণ্য কমে বিক্রি হলেও সেগুলোর দাম অযৌক্তিক।

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগ ঠেকাতে এখন থেকেই মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু মানুষের আতঙ্ক ও বাড়তি চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাজারে মশারি, কয়েলসহ মশানিধনে ব্যবহৃত পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নজরদারির অভাব ও অতি মুনাফার লোভের কারণে মশা নিধনে ব্যবহৃত এসব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে।

ঢাকার চকবাজার, নিউমার্কেট, পীর ইয়ামেনী মার্কেট, গুলিস্তান, তালতলা নিউমার্কেট, নতুন বাজারসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি দোকান ঘুরে জানা যায়, মশারি আর কয়েল ছাড়াওমশা প্রতিরোধে মানুষ এখন বিভিন্ন ধরনের ক্রিম, তেল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য ব্যবহার করে থাকেন।অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে মশারি, স্প্রে, কয়েল ও বৈদ্যুতিক কয়েল এবং ব্যাটের দাম ও বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে।

এদিকে, অনেক ব্যবসায়ী পাইকারি বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি পণ্য এনে মজুত করে রাখছেন। ফলে পাইকারি বাজারে এসব পণ্যের কৃত্রিম সংকটও সৃষ্টি হচ্ছে।

মশা নিধনকারী পণ্যের দাম

চকবাজারে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে অর্ধশতাধিক ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের মশার কয়েল পাওয়া যায়। এর মধ্যে অধিকাংশ দেশি ব্র্যান্ডের কয়েলে গায়ের দাম ১০০-১৮০ টাকা পর্যন্ত।

পাইকারি বাজারে এসব কয়েলের দাম ৪০-৮০ টাকা। অন্যদিকে, খুচরা বাজারে প্রতি প্যাকেট কয়েল ১০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

গুলিস্তান ও পীর ইয়ামেনী মার্কেটে সিঙ্গেল মশারির পাইকারি মূল্য ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। অন্যদিকে, ডাবল মশারি পাইকারিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ম্যাজিক মশারি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, মানভেদে শিশুদের ফোল্ডিং মশারির পাইকারি দাম ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। নিউমার্কেটসহ ঢাকার অন্যান্য বাজারে এসব মশারিই বিক্রি হচ্ছে পাইকারির দ্বিগুণ দামে।

২৫০ গ্রাম থেকে শুরু করে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত মসকিটো স্প্রে ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

৫০ গ্রাম থেকে শুরু করে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির মসকিটো ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১,৮০০ টাকা দামে।

অন্যদিকে, মশা মারতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ব্যাট ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মাস আগেও এসব ব্যাটের দাম ৩৫০ টাকা ছিল।

বাড়তি দাম প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য

মশা নিধনকারী পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা ডলার ও এলসি সংকটের কারণকে দায়ী করছেন।

ফ্রেন্ডশিপ ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী আনিছুর রহমান নাহিদ বলেন, “দেশে ডলার সংকটের কারণে মশা বাড়ার এ মৌসুমকে সামনে রেখে আমরা কোনো এলসি খুলতে পারিনি। যেসব আমদানিকারক কিছু পণ্য এনেছেন, তারাও অতিরিক্ত মূল্যে আমাদের কাছে জিনিসপত্র সরবরাহ করছেন।

চকবাজারের মদীনা ম্যানসনের ম্যানেজার শাকিল আহমেদ বলেন, “বাজারে সবকিছুরই দাম বেড়েছে, সে তুলনায় কয়েলের দাম কম বেড়েছে। কয়েল তৈরিতে যেসব কাঁচামাল ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, গত বছরের তুলনায় সেগুলোর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব বাজারে এসে পড়েছে।”

পীর ইয়ামেনী মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী খাদেমুল ইসলাম জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সঙ্গে সমন্বয় করে মশারির দাম প্রতিবছরই পাইকারি বাজারে কিছুটা বাড়ে, তবে সেটা খুব বেশি নয়। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় খুচরা ব্যবসায়ীরা এ সময়ে এসে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দেন।

নিউমার্কেটের মোল্লা অ্যান্ড সন্স নামে মশারির দোকানের স্বত্বাধিকারী আবুল হাশেম বলেন, “পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া আমাদের উপায় নেই।”

ক্রেতাদের হতাশা

সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় নিরুপায় হয়ে ক্রেতাদের বেশি দামেই এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাই ক্রেতারা সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব নিয়ে বরাবরই হতাশ।

নিউমার্কেটে শিমু আক্তার নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি ২৪০ টাকায় দুই প্যাকেট কয়েল কিনেছেন। এগুলোর প্রতিটার গায়ের মূল্য লেখা ২০০ টাকা করে।

তিনি বলেন, পণ্যের গায়ের দামের চেয়েও কম মূল্যে পণ্য কিনছি, তবু ঠকছি। অথচ এগুলো দেখার কেউ নেই।

গুলিস্তানে মশারি কিনতে আসা আরেক ক্রেতা জানান, বাজারে ক্রেতা বাড়ায় এক দামে মশারি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। যে মশারি কিছুদিন আগে বা গত বছর ২০০ টাকা দাম ছিল, এখন সেটা এক লাফে ৪০০ টাকা।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

সংশ্লিষ্টরা জানান, এলাকার খুচরা বিক্রেতা ও দোকানিরা মানুষের আতঙ্ক, প্রয়োজন আর চাহিদার সুযোগ নিচ্ছেন। আবার মশা প্রতিরোধে বাজারে যেসব পণ্য আছে, তার চেয়ে চাহিদাও বেশি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “মশা প্রতিরোধে আমাদের বাজারে যেসব পণ্য আছে, তা যথেষ্ট নয়। আবার ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগে মানুষের আতঙ্ককে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি বাজারে নজরদারিও বাড়াতে হবে।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ জব্বর মণ্ডল বলেন, “মশা মারার যেসব পণ্য বাজারে আছে, তার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিবছরই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এবারও আমরা অভিযান পরিচালনা করবো। যারা অসাধু ব্যবসায়ী আছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”

About

Popular Links