Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আঁখির চিকিৎসায় গাফিলতির কথা স্বীকার করল সেন্ট্রাল হাসপাতাল

ডা. সংযুক্তা সাহার কারণেই এই অবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. এ টি এম নজরুল ইসলাম

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩, ০৪:৫২ পিএম

নবজাতকসহ না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো মাহবুবা রহমান আঁখির চিকিৎসায় নিজেদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেছে রাজধানী ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশও করেছে হাসপাতালটি। 

সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে সেন্ট্রাল হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. এ টি এম নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “গাফিলতির প্রথমেই আছেন হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা সাহা। তার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

নজরুল ইসলাম বলেন, “আঁখির চিকিৎসায় অবশ্যই গাফিলতি ছিল। গাফিলতি ছিল প্রথমত ডা. সংযুক্তা সাহার, তারপর ওটির চিকিৎসকদের, কারণ সে সময় তারা সিনিয়র ডাক্তারদের ডাকেননি। যদিও তারা বলছে যে ফোনে পাওয়া যায়নি, দেরি করে এসেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন আসার কথা। ইতোমধ্যে পাঁচ দিন চলে গেছে, আর বাকি আছে দুই দিন। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।”

হাসপাতালের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের তদন্ত কার্যক্রম তো এখনও শেষ হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্ট এলেই আমরা একটা অ্যাকশনে যাবো।”

তিনি বলেন, “একটি বিষয় পরিষ্কার যে, সংযুক্তা সাহার কারণেই আজ এই ঘটনা ঘটলো। উনি একসঙ্গে এত বেশি রোগী দেখেন...। শুরু থেকে যদি ক্লিয়ার করে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো রোগী তার অধীনে ভর্তি হতো না। আমাদের আরও কনসালটেন্ট ছিল, অথবা অন্য কোথাও যেতো। ফল্ট তা তো তার কারণেই হয়েছে।'”

ডা. সংযুক্তা সাহা ওইদিন হাসপাতালে থাকবেন না, সেটি তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাননি বলে দাবি করেন ডা. এ টি এম নজরুল ইসলাম। 

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি জানতাম তিনি কর্মস্থলে নেই, তাহলে তার রোগীদের জন্য আমরা বিকল্প চিকিৎসকের ব্যবস্থা রাখতাম। কিন্তু তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং এ ঘটনাটি আমরা মনে করি, তার জন্যই হয়েছে। এমনকি যারা রোগীদের ইনফরমেশন দিয়েছেন, তারা হাসপাতালের স্টাফ নন। তারা সংযুক্তি সাহার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, সুতরাং এর দায় সম্পূর্ণ সংযুক্তা সাহার।”



গত ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে প্রসব ব্যথা ওঠায় মাহবুবা রহমান আঁখিকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তার অধীনে ভর্তি করানো হয়। গত ১৪ জুন সেন্ট্রাল হাসপাতালে “ভুল চিকিৎসা' ও কর্তৃপক্ষের প্রতারণা”র অভিযোগ তোলেন তার স্বামী ইয়াকুব আলী। তিনি দাবি করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মারা গেছে তাদের নবজাতক সন্তানও।

জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। এ সময় তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলেও চিকিৎসক জানিয়েছিলেন। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই সন্তান প্রসব সম্ভব বলে আশ্বস্তও করেছিলেন ডা. সংযুক্তা সাহা।

প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তার অধীনে মাহবুবাকে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওইসময় ডা. সংযুক্তা সাহা দেশেই ছিলেন না, অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংযুক্তা সাহা আছেন এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) কাজ করছেন। অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তখন অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা বের করা হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি। এতে আঁখির অবস্থাও শঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার পর তাকে পার্শ্ববর্তী ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার দুপুরে সেখানে মারা যান তিনি। 

ওই ঘটনায় বুধবার ধানমন্ডি থানায় মোট ছয় জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে “অবহেলাজনিত মৃত্যুর” অভিযোগ এনে একটি মামলা করা হয়। সেখানে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হলেন ডা. মিলি, ডা. এহসান, অধ্যাপক সংযুক্তা সাহার সহকারী জমির এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপক পারভেজ।

মামলাটিতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই চিকিৎসক ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহা এরই মধ্যে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের একটি পরিদর্শন দল ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে আইসিইউতে রোগীর রাখার উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়া যায়নি। এজন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষ বন্ধ করে দেওয়াসহ কয়েকদফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

About

Popular Links