Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘সময়ের অভাবে’ ১৩ বছর বিএমডিসি’র নিবন্ধন নবায়ন করতে পারেননি ডা. সংযুক্তা

দেশে চিকিৎসেবা দিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন থাকতে হয় চিকিৎসকদের

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ০৩:৫১ পিএম

রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপতালে অবহেলাজনিত কারণে নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় ডা. সংযুক্তা সাহা। অপারেশন থিয়েটার থেকে ফেসবুক লাইভ, দিনে অতিরিক্ত সংখ্যক রোগী দেখাসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।

দেশে চিকিৎসেবা দিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন থাকতে হয় চিকিৎসকদের। তবে, জানা গেছে ১৩ বছর আগেই ডা. সংযুক্তা সাহার বিএমডিস নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ, এই ১৩ বছর ধরে তিনি বিএমডিসির নিবন্ধন ছাড়াই রোগী দেখেছেন তিনি।

এ বিষয়ে আলোচিত এই চিকিৎসকের বক্তব্য, ব্যস্ততার কারণে তিনি নিবন্ধন নবায়ন করাতে পারেননি।

শনিবার (২৪ জুন) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ডা. সংযুক্তা বলেন, “আমার নিবন্ধন নেই, বিষয়টি কিন্তু এমন না। নিবন্ধন আছে, তবে সেটি রিনিউ করা হয়নি। বিএমডিসিতে রিনিউয়ের একটা ফি দিতে হয়, এটা গত বছর থেকেই অনলাইন সিস্টেম ছিল এটা আমি জানতাম না।” 

তিনি আরও বলেন, “আমার আগেই নিবন্ধন নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমি এত ব্যস্ত থাকি যে, সময় পাইনি। এটা আমার ভুল হয়েছে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মিডিয়াতে বেশি কথা বলে আমি কনফিউশনের সৃষ্টি করতে চাই না। ইতোমধ্যে আমাদের কোটি-কোটি জনগণ কনফিউজড। এতভাবে রিপোর্টিং হচ্ছে, এই টিভি বলে এই কথা, ওই টিভি বলে ওই কথা। আসলে আমি নিজে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছি। আমার পক্ষে কথা বলাটাও এখন সম্ভব হচ্ছে না।” 

তিনি বলেন, “আমি তো আমার বাসায় আসারই সময় পাই না। নতুন চাকরির ক্ষেত্রে আমাদের কাগজপত্র ঠিক করতে হয়, আমার নতুন কোনো চাকরি হয়নি তাই কাগজপত্র ঠিক করা হয়নি।”

নিবন্ধনের জন্য ১৩ বছরে একবারও সময় হয়নি? জানতে চাইলে সংযুক্তা বলেন, “যখন থেকে আমি মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে বিভাগীয় প্রধান ছিলাম, তখন নিবন্ধনের বিষয়গুলো তারাই হ্যান্ডেল করতো। কাগজপত্র নিয়ে তারাই রিনিউ করে নিয়ে আসতো। সেন্ট্রাল হসপিটালে আসার পর সেটি আর হয়ে ওঠেনি।”

গত ৯ জুন সেন্ট্রাল হাসপাতালে সার্জারির সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। কয়েকদিন পরে মাহবুবা রহমান আঁখি নামের ওই মা অপর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 এই ঘটনায় আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

 সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি হয়েছিলেন আঁখি। তবে অভিযোগ রয়েছে-  রোগী ও তার পরিবারকে সার্জারির আগে বলা হয়েছিল যে ডা. সংযুক্তা সাহা অপারেশন করবেন। হাসপাতালে তাকে ওই চিকিৎসকের অধীনে ভর্তি করা হলেও ডা. সংযুক্তা সাহা দেশেই ছিলেন না। অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তখন অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা বের করা হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি।

About

Popular Links