Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডা. সংযুক্তার বিরুদ্ধে বিএমডিসিতে আঁখির স্বামীর অভিযোগ

অভিযোগে আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন  দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ডা. সংযুক্তা সাহার নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩, ০৮:৩৭ পিএম

চিকিৎসকদের ভুলে নবজাতকসহ মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা সাহার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন। অভিযোগে তিনি দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ডা. সংযুক্তা সাহার নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার (২৫ জুন) বিএমডিসির প্রেসিডেন্ট এবং রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক আবেদনে এ দাবির কথা জানান ইয়াকুব আলী সুমন। অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযোগে ইয়াকুব আলী সুমন বলেন, “আমার অনুমতি ছাড়াই অজ্ঞান অবস্থায় আঁখিকে ওটিতে নিয়ে সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা বের করা হয়। পরবর্তী সময়ে আমি ডা. মাকসুদা আক্তার মিলি, ডা. এহসানকেও ওটিতে দেখতে পাই। আমি ডা. সংযুক্তা সাহাকে খোঁজাখুঁজি করলে, তারা সকালে আমাকে জানান- ডা. সংযুক্তা সাহা নেই। ডা. শাহজাদী মুস্তাশিদা সুলতানা স্বীকার করেন যে, ডা. সংযুক্তা সাহার নির্দেশে তিনি এ কাজ করেছেন। এরপর রোগীকে জরুরিভাবে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে বলেন। কিন্তু আমি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সহযোগিতায় আমার স্ত্রীকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে সিসিইউতে ভর্তি করাই।”

আঁখির স্বামী আরও বলেন, “ল্যাবএইডে ভর্তি করানোর পর সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে জানানো হয়- আমার সন্তান মারা গেছে এবং তাকে মর্গে রেখেছে। এরপর ১৮ জুন দুপুরে আমার স্ত্রীও মারা যান। পরে ১৯ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্ট মর্টেম শেষে রাত ১০টায় কুমিল্লার লাকসামে নিয়ে আমার স্ত্রী ও সন্তানকে দাফন করি।”

পারিবারিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে ইয়াকুব আলী বলেন, “আমার স্ত্রী মাহবুবা রহমানের বাবা, ভাই, বোন কেউই নেই। বিধবা মা তার একমাত্র সন্তান মাহবুবা রহমানকে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছেন। মাহবুবা রহমান চাকরি করে মায়ের কষ্ট লাঘব করবেন, এমন প্রত্যাশা ছিল। মাহবুবা রহমান রাজধানীর সরকারি ইডেন মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিল। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আঁখির মাও এখন মৃতপ্রায়।”

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, “আমার স্ত্রী ও নবজাতককে হত্যা করা হয়েছে। এজন্য আমি দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। একইসঙ্গে সেন্ট্রাল হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন এবং ডা. সংযুক্তা সাহার রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি করছি।”

আঁখির স্বামীর অভিযোগের বিষয়ে বিএমডিসি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লিয়াকত হোসেন জানান, মাহবুবা রহমান আঁখির স্বামী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এটা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করা হবে। পরবর্তী সময়ে এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। এ সময় তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলেও চিকিৎসক জানিয়েছিলেন। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই সন্তান প্রসব সম্ভব বলে আশ্বস্তও করেছিলেন ডা. সংযুক্তা সাহা। প্রসব ব্যথা ওঠায় ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তার অধীনে মাহবুবাকে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, ওই সময় ডা. সংযুক্তা সাহা দেশেই ছিলেন না, অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংযুক্তা সাহা আছেন এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) কাজ করছেন। অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তখন অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা বের করা হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি। এতে আঁখির অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার পর তাকে পার্শ্ববর্তী ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার দুপুরে সেখানে মারা যান তিনি। 

ওই ঘটনায় গত বুধবার ধানমন্ডি থানায় মোট ছয়জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে “অবহেলাজনিত মৃত্যুর” অভিযোগ এনে একটি মামলা করা হয়। যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হলেন ডা. মিলি, ডা. এহসান, অধ্যাপক সংযুক্তা সাহার সহকারী জমির এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপক পারভেজ।

মামলাটিতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই চিকিৎসক ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহা এরই মধ্যে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ২১ জুন এই দুই চিকিৎসকের জামিন শুনানি ছিল। আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেননি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূরের আদালত এ আদেশ দেন।

About

Popular Links