ঈদ-উল-আজহার আমেজ বইছে দেশজুড়ে। বৃষ্টি সঙ্গী করেই সবাই মেতেছেন খুশিতে। এই আনন্দের আঁচ লাগেনি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলোতে।
শোকের চাদরে ঢাকা পড়েছে তাদের ঈদ আনন্দ। স্বজন হারানোর বেদনা তাদের বুকে।
গত ২৪ জুন বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভাঙ্গার মালিগ্রাম এলাকায় সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লেগে আগুন ধরে যায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন সাত আরোহী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান চালক।
বোয়ালমারী উপজেলার ফেলাননগর গ্রামের তাসলিমা বেগমকে (৫৫) নিয়ে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল থেকে ফিরছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। সঙ্গে ছিলেন তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা।
তাসলিমার ভাসুরের ছেলে ইমরান হোসেন বলেন, “ঈদ আনন্দ বলে কিছু নেই আমাদের। আমরা এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারছি না। চাচির মেয়ে চায়না ও ছেলে আনিস শোকে মূহ্যমান। চাচা (তাসলিমার স্বামী) আজিজার শেখ প্রবাসী। তাকে ঘটনা জানানো হয়েছে। তিনি ঈদের পরে ছুটি পেলে বাড়ি আসতে পারেন।”
ওই দুর্ঘটনায় তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে হারিয়ে শোকে পাথর উপজেলার মাইটকোমরা গ্রামের আলমগীর খান।
আরও পড়ুন- ফরিদপুরে অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড, সাতজনের মৃত্যু
শোকার্ত মানুষটি বলেন, “যাদের নিয়ে ঈদ করব, তারাই তো ছেড়ে চলে গেছে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! আমাকে একা ফেলে তারা হারিয়ে গেল।”
স্ত্রী-সন্তানদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন আলমগীর।
দুর্ঘটনায় নিহত তাসলিমা বেগমকে (৫০) ২৪ জুন রাত ১০টার দিকে ফেলানগর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার এক মেয়ে কমলা বেগম (৩০) ও তিন সন্তানকে মাইট কুমড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে এবং আরেক মেয়ে বিউটি বেগম (২৬) ও তার ছেলে মেহেদীকে (১০) ২৫ জুন সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলার কুচিয়া গ্রামে দাফন করা হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত অ্যাম্বুলেন্স চালক মৃদুল চন্দ্র মালোর (২৬) শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ২৫ জুন দুপুর ১২টার দিকে অম্বিকাপুর পৌর শ্মশানঘাটে। তার বাড়ি ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর মহল্লায়।
এ দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ‘‘অতিরিক্ত গতির কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গাড়িটির একটি চাকা ফেটে সেটি উড়াল সড়কের রেলিংয়ে আছড়ে পড়ে আগুন লেগে যায়, ফলে গাড়িতে থাকা আটজনেরই মৃত্যু হয়।''
ওই সড়কজুড়ে স্পিড ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব করেছে তদন্ত কমিটি।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাসলিমার পরিবারকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক মৃদুলের পরিবারকে ২০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।



