Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তরমুজ-আমের মিশ্রণে জিলাপি, দাম ২৫০ টাকা!

খুলনা শিশু হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এস আরেফিন টুটুল বলেন, ‘তরমুজ ও কাঁচা আমে কিছু পুষ্টিগুণ থাকে। যা আগুনের তাপে নস্ট হয়ে যায়। যা মানব দেহে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে’

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১১:৫৭ এএম

ফুডগ্রেড কালার ও ফ্লেভার যুক্ত করে খাবারের রং ও স্বাদ বদল করে ক্রেতা আকৃষ্ট করা নতুন কিছু নয়। তবে ইদানীং নিত্য নতুন ফর্মুলায় ক্রেতাদের সামনে আসছে মুখরোচক খাবার, পাচ্ছে জনপ্রিয়তাও। তেমনটি হয়েছে তরমুজ ও কাচা আমের জিলাপির ক্ষেত্রে। সাধারণ জিলাপির সব উপকরণের সঙ্গে ভাল রংয়ের তরমুজ ও কাচা আমের মিশ্রণ পরিমাণ মত মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে জিলাপি। তবে তেলে ভাজার ফলে তরমুজ ও আমের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খুলনার খালিশপুর বিআরডিসি রোডের চিত্রালী সিনেমা হলের সামনে ইসলামিয়া মিষ্টি ঘরে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ ও কাঁচা আমের জিলাপি। নতুনত্ব আর ভিন্নস্বাদের জিলাপি কিনতে দূরদূরান্ত থেকে আসছেন ক্রেতারা। এই জিলাপির খবর প্রত্যন্ত এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে ।

দোকান মালিক আবদুস সোবহান রিপন জানান, ১৯৮৭ সাল থেকে মিষ্টির ব্যবসা তাদের। তার ছোট ভাই আল আমিন আর তিনি এবার ইফতারিতে নতুন কিছু করার চিন্তা করেন। নতুন চিন্তা হিসেবে তরমুজ আর আমের জিলাপি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। ১২ এপ্রিল তরমুজ দিয়ে জিলাপি তৈরি শুরু হয়। এ জন্য ভালো রঙের তরমুজ কিনতে হয়। কারণ জিলাপিতে কোনো ফুড কালার ব্যবহার করা হয় না।

তিনি জানান, ইফতারিতে অনেকেই নতুন স্বাদের খাবার পছন্দ করেন। যারা ভিন্ন স্বাদের খাবার পছন্দ করেন তাদের জন্য তরমুজের জিলাপি বেশ সাড়া ফেলেছে। এই জিলাপি তৈরিতে সাধারণ জিলাপির সব উপকরণই থাকে। সঙ্গে যুক্ত করা হয় তরমুজ ও কাচা আম। এগুলো ব্লেন্ডার দিয়ে মেশাতে হয়।

আল আমিন বলেন, “তরমুজ ও আমের জিলাপি ইফতারে লোকজনের খুবই পছন্দ। ১২ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই জিলাপির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। প্রতি কেজি জিলাপির মূল্য রাখা হচ্ছে ২৫০ টাকা।”


আরও পড়ুন



জিলাপির ক্রেতা সাবিহা আক্তার মীম বলেন, “বান্ধবীর কাছে তরমুজের জিলাপির কথা শুনে অবাক হয়েছিলাম। তাই কিনতে আসা। দেখতে খুবই ভালো লাগছে। যেহেতু রোজা তাই খেয়ে দেখিনি। তবে আশা করি ভালো হবে।”

কাশিপুরের বাসিন্দা ওমর হাসান বলেন, “বাসার পাশেই তরমুজের জিলাপি তৈরি হচ্ছে। তাই কিনতে আসলাম। পরিবারে জন্য ৬০ টাকার জিলাপি কিনলাম। ভালো লাগলে আবারও কিনতে আসবো।”

ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “ইফতারে খাওয়ার সময় বুঝতে পারবো এই জিলাপির স্বাদ কেমন। সাধারণ জিলাপি কিনতে লাগে কেজি প্রতি ১৩০ টাকা। সেখানে নতুন স্বাদের জিলাপি ২৫০ টাকা কেজি নিলো।”

খুলনা শিশু হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ এস আরেফিন টুটুল বলেন, “তরমুজ ও কাঁচা আমে কিছু পুষ্টিগুণ থাকে। যা আগুনের তাপে নষ্ট হয়ে যায়। যা মানবদেহে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে।”

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের খুলনা জেলার সহকারী পরিচালক শাহীনুর রহমান শিকদার বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দু-একদিনের মধ্যে সরাসরি পর্যবেক্ষণে যাবো। তরমুজ বা আমের সঙ্গে কোনো প্রকার রাসায়নিক দেওয়া হয় কী না, তা দেখা হবে। আর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে খাবারের মান ও পুষ্টিগুণের বিষয়টিও দেখব। কোনো ধরনের সমস্যা পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এর আগে গত বছর খুলনার ডুমুরিয়ায় এক দম্পতি তরমুজ দিয়ে গুড় তৈরি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এবার খালিশপুরের ইসলামিয়া মিষ্টি ঘরের তৈরি তরমুজ ও কাঁচা আমের জিলাপি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

About

Popular Links