Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ঘুষে চাকরি নেওয়া’ আরডিএ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলা দুদকের

দুদক জানায়, শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে আরডিএতে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ লাভ ও চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা চলমান

আপডেট : ০২ জুন ২০২২, ১১:৫৪ এএম

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) এক সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বুধবার (১ জুন) দুপুরে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মামলাটি দুদক থেকে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

মামলার বাদী ও দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইনকেই তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার একটি অভিযোগ দুদক কার্যালয়ে আসে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে শেখ কামরুজ্জামানকে তার সম্পদ বিবরণী জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একাধিকবার অভিযুক্তকে দুদক কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। পরে অভিযুক্ত সম্পদ বিবরণী জমা দেন। 

জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ে অভিযুক্তের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া ও বর্তমান নিবাস রাজশাহীতে মাঠপর্যায়ে  অনুসন্ধান চালায় দুদক।

দুদক সূত্র ঢাকা ট্রিবিউনকে জানায়, শেখ কামরুজ্জামানের আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান শেষে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৭৬ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৬ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুদক শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলাটি করে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর শেখ কামরুজ্জামান তার অবৈধ সম্পদ ও সম্পত্তি গোপন করার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে মালিকানা স্থানান্তর করেন। সম্পদের প্রকৃতি বদল করেন। একই সঙ্গে উৎস গোপন করার বিভিন্ন চেষ্টা করেন। 

দুদক জানায়, শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে আরডিএতে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ লাভ ও চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আরও একটি দুর্নীতির মামলা রাজশাহীর স্পেশাল জজ আদালতে চলছে। এই মামলায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় দুদক। 

একই মামলায় তিনি উচ্চ আদালতে জামিনে থাকার কথা দাবি করেছেন। যদিও উচ্চ আদালতের আদেশের কোনো কপি গত দুই বছরেও তিনি আদালতকে দেখাতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পিপি সূত্রে জানা গেছে।

দুদক আরও জানায়, শেখ কামরুজ্জামান বর্তমানে রাজশাহী নগরীর পবা নতুনপাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তবে কুষ্টিয়ার বারখাদা এলাকায় তার স্থায়ী নিবাস। কুষ্টিয়াতেও বিপুল সম্পদ রয়েছে তার। আবার রাজশাহী মহানগরী ও পবা এলাকায় জমি বাড়ি ও পুকুর কিনেছেন। যা তার বর্তমান জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, অবৈধ সম্পদের অভিযোগে শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে শেখ কামরুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

About

Popular Links