Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাকিস্তানের গাধা যায় চীনে, বাংলাদেশের গরু-ছাগলের মাংসও রপ্তানির চিন্তা

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, প্রাণিসম্পদ খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বৃহত্তর খাত হবে বলে মন্তব্য করেন

আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ০৭:৪৯ পিএম

এক যুগের ব্যবধানে দেশে বেড়েছে গরু-ছাগলের সংখ্যা। এই সময়ের মধ্যে গরুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪০ লাখ, আর ছাগল বেড়েছে প্রায় ৬১ লাখ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২০ সালের কৃষিশুমারির সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে বেড়েছে গাধার সংখ্যা। বিশ্বে গাধার সংখ্যার নিরিখে পাকিস্তানের অবস্থান এখন তৃতীয়। শুক্রবার (১০ জুন) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দা এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদন জানানো হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাকিস্তানে গাধার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক লাখ। ফলে দেশটিতে এখন মোট গাধার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ লাখে। যা গত অর্থবছরে ছিল ৫৬ লাখের আশেপাশে, তারও আগে ২০১৯-২০ এ ছিল ৫৫ লাখ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচালিত শুমারির ফল থেকে জানা যায়, দেশে এখন গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ ১৪ হাজার ১৪৪। ২০০৮ সালে যা ছিল ২ কোটি ৫৭ হাজার ৮৫৩। এক যুগের ব্যবধানে গরু বেড়েছে ৪০ লাখের বেশি। অন্যদিকে দেশে বর্তমানে ছাগলের সংখ্যা ১ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ২০০। যা এক যুগ আগে ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৯; অর্থাৎ এক যুগে ছাগল বেড়েছে প্রায় ৬১ লাখ।

গরু-ছাগল ছাড়াও বিবিএসের ওই প্রতিবেদনে ভেড়া এবং মহিষের হিসেবও দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে ভেড়া উৎপাদনও বেড়েছে আশানুরূপভাবে। এক যুগে ভেড়ার সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৬১৯ হয়েছে। ২০০৮ সালে যা ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৭। অবশ্য সরকার ভেড়া উৎপাদনে খামারিদের উৎসাহিত করতে নানা প্রকল্প নিয়েছে।

অন্যদিকে মহিষের সংখ্যাও বেড়েছে ৩০%-এর বেশি। দেশে এখন ৬ লাখ ২৯ হাজার ৬৪০টি মহিষ আছে। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজারের মতো। সব মিলিয়ে সারা দেশে দুধ দেয় এমন গরু, মহিষ ও ছাগল আছে ১৮ লাখের মতো।

এক যুগের ব্যবধানে হাঁস-মুরগি, পাখিসহ বিভিন্ন ধরনের পাখপাখালি পালনও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশে প্রায় ১৪ কোটির বেশি দেশি ও ব্রয়লার মুরগি আছে। হাঁস আছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। এক যুগে ব্যবধানে হাঁসের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। 

অন্যদিকে মাছ চাষেও ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। একই সময়ের ব্যবধানে মাছ চাষের জলাশয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। শুমারির ফলাফল অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে প্রায় ১১ লাখ একর জলাশয়ে মাছ চাষ হয়েছে। এক যুগ আগে সোয়া পাঁচ লাখ একর জলাশয়ে মাছ চাষ হতো।

দেশের প্রাণিসম্পদের বিকাশে রপ্তানি আয়েও প্রভাব রাখবে বলে মনে করছে সরকার। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি “প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী-২০২২”- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রাণিসম্পদ খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বৃহত্তর খাত হবে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেছেন, “দেশে মাংস উৎপাদন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অতীতে কল্পনার বাইরে ছিল। আমরা বিদেশ থেকে মাংস আনব না, বরং রপ্তানি করব। প্রাণিসম্পদ খাত হবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বৃহত্তর খাত।”

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদ খাতও বেশ সমৃদ্ধশীল। দেশটি প্রাণিসম্পদ রপ্তানির দিকে আগের চেয়েও বেশি মনোযোগ দিয়েছে।

দেশটির ২০২১-২২ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন করে মনোযোগ দিচ্ছে।”

উল্লেখ্য, পাকিস্তান নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে প্রতি বছর বিদেশেও গাধা রপ্তানি করে। পাকিস্তান থেকে প্রাণীটির প্রধান আমদানিকারক চীন। চীনে গাধার চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এদিকে, এই প্রাণীটি রপ্তানি করে পাকিস্তানও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। গাধার চামড়া থেকে তৈরি জেলটিনের ওষুধি গুণ রয়েছে। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

চীনে গাধার চাহিদা এতই বেশি যে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, একসময় চীন থেকে গাধা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেশটির কারণে সারা বিশ্বের গাধার সংখ্যাও কমে যেতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের। 

গাধার সংখ্যার দিক থেকে পাকিস্তান বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম স্থানে রয়েছে চীন। এরপরও গাধা আমদানি করে দেশটি।

About

Popular Links