Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন দুর্নীতির কলঙ্ক মাথায় চাপানো সেই আবুল হোসেন

এসময় সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকেও প্রধানমন্ত্রীর পাশে দেখা গেছে

আপডেট : ২৫ জুন ২০২২, ০৭:০৬ পিএম

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশেই অবস্থান করেছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

শনিবার (২৫ জুন) দুপুরের আগে মাওয়ার জাজিরা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী যখন সেতুর ফলক উন্মোচন করেন তখন বিশ্বব্যাংকের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার আগে আবুল হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ সময় যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়। যদিও বিশ্বব্যাংকও শেষ পর্যন্ত প্রকল্প থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে পদ্মা সেতু নির্মাণে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, আইডিবির ঋণচুক্তি হয়। ২০১১ সালের এপ্রিলে ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্প করতে ঋণচুক্তি করে সরকার। এর মধ্যে ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের।

তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতিচেষ্টার অভিযোগ হয়েছে- এমন একটি অভিযোগ তোলে বিশ্বব্যাংক। বলা হয়, এই দুর্নীতিচেষ্টায় লাভালিন ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা জড়িত। সে সময় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে তদন্ত করেন। তারা আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা ও তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে এই ব্যবস্থায় রাজি হয়নি।

যদিও সে সময়ের সেতুসচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ২০১২ সালের ২৩ জুলাই আবুল হোসেন মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। তবে তার পদত্যাগেও বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে ফেরেনি। সরে যান প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমানও।

তবে বিশ্বব্যাংককে আর ফেরানো যায়নি। ওই বছরের জুনেই প্রকল্প থেকে সরে যায় দাতা সংস্থাটি। পরে জাইকা, এডিবি, আইডিবি সরে দাঁড়ালে প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই বছরের ৪ জুলাই জাতীয় সংসদে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন।

এই ঘটনায় কানাডার আদালতে এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেতুর কাজ শুরুর দুই বছর পর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কানাডার আদালত পদ্মা সেতুতে দুর্নীতিচেষ্টার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে রায় দেন।

এদিকে দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শনিবার  পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, “এটি একটি আনন্দের খবর। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিরাট অবদান রাখবে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার এটিই প্রকৃত সময়।”

About

Popular Links