Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিগারেট-ফোনে ব্যস্ত ট্রাকচালক, রংপুরে হাসপাতালগামী ৫ অটোরিকশাযাত্রী নিহত

ওসি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে মোবাইলে কথা বলছিলেন ট্রাকচালক

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ০৭:১৪ পিএম

রংপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাঁচজন আরোহী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ জুলাই) রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সরেয়ারতল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকচালক এক হাতে সিগারেট ও অন্য হাতে মোবাইলে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সিগারেট রাখা হাতে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। এ সময় অটোরিকশাকে চাপা দিলে দুমড়েমুচড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও তিনজন।

নিহতরা হলেন, অটোচালক রাজা মিয়া (৪৬), জান্নাত মাওয়া (৪), গীতা রানী (৬০) ও শাহজাহান মিয়া (৫৫)। আরেকজনের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে রংপুর শহর থেকে অটোরিকশাযোগে আটজন পীরগাছায় যাচ্ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে অটোরিকশাযোগে রংপুর শহর থেকে পীরগাছায় যাচ্ছিলেন তারা। সরেয়ারতল এলাকায় রংপুরগামী মালবাহী ট্রাক অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই এক নারী ও অটোরিকশাচালক নিহত হন। এ সময় আহত হন ছয়জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুজনের লাশ উদ্ধার করেন। আহত ছয় জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত বাকি তিন জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যানচালক আফছার আলী বলেন, “ট্রাকচালক এক হাতে সিগারেট ও অন্য হাতে মোবাইলে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হাতে মোবাইল না থাকলে অটোরিকশাটিকে রক্ষা করতে পারতেন চালক।”

ঘটনাস্থলে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন নিহত অটোরিকশাচালক রাজা মিয়ার স্বজন স্বপন আহমেদ। তিনি বলেন, “চালক মোবাইলে কথা বলতে বলতে ট্রাক চালাচ্ছিলেন। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অটোরিকশাকে চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।”

রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আহত ছয় জনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। পরে শুনেছি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা গেছেন। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হলেন।”

মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে আটক করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে মোবাইলে কথা বলছিলেন চালক।”

About

Popular Links