Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কোরবানির ‘সংগ্রহ করা মাংস’ বিক্রি করে বাসা ভাড়া দেবেন বস্তির মাজেদা

নিমতলী বস্তিতে বসবাস করা মাজেদা বলেন, এখন তো বস্তিমালিক সব মিলিয়ে ৬ হাজার টাকা নেয়। মাংস খাইলেই তো চলবে না, বাসা ভাড়াও তো দিতে হবে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২২, ০৯:২২ এএম

ঢাকায় বসবাসকারী নিম্নআয়ের মানুষেরা ঈদের দিন কোরবানির মাংস সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। রবিবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশে ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করা হয়। এদিন রাজধানীর অলিতেগলিতে বিত্তবানরা পশু কোরবানি করেছেন।

ঈদের সংগ্রহ করা মাংস বিক্রির অন্যতম কারণ হিসেবে তারা ঢাকায় বাস করতে “অতিরিক্ত ব্যয়ের” কথা জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে ৩০ বছর ধরে বাস করছেন স্বামী পরিত্যক্তা মাজেদা বেগম (৬০)। তিনি রাজধানীর নিমতলী বস্তিতে থাকেন এবং মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। 

ঈদের দিনে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেছেন তিনি; আবার সেই মাংস এনে বিক্রি করেও দিয়েছেন কারওয়ানবাজারে।

না খেয়ে মাংস বিক্রি করে দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দা বিজনেস স্টান্ডার্ডকে বলেন, “বাসার জন্য এক-দেড় কেজি রাখছি, বাকিটা বিক্রি করে বাসা ভাড়া দিমু, বাসা ভাড়া তো সব মিলিয়ে ৫-৬ হাজার টাকা। আগে ৪ হাজার টাকা ছিল। এখন তো বস্তিমালিক সব মিলিয়ে ৬ হাজার টাকা নেয়। মাংস খাইলেই তো চলবে না, বাসা ভাড়াও তো দিতে হবে।”

রাজধানীর কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা মাংসের ক্রেতা নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ, যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। যারা বছরের অন্যান্য সময়েও গরুর মাংস কিনতে পারেন না সাধারণত এ সময় কম দামে (কেজি ২৫০-৪০০ টাকা) মাংস কেনেন।

কারওয়ান বাজারে ছোট শিশুসহ মাংস কিনতে এসেছেন শাহিনুর বেগম (৪০); তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ২৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। স্বামী, ছেলেমেয়ে নিয়ে তাদের ৫ জনের সংসার। 

তিনি লজ্জা নিয়ে সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “ভাই কিছু জিজ্ঞেস করিয়েন না, কোরবানি দিতে পারি নাই। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা খরচ, বাসা ভাড়া ইত্যাদি দিয়ে কোরবানি দেওয়ার টাকা তো আর নেই! টাকা নেই, তাই এ বছর গ্রামের বাড়িও যাইনি।” 

তিনি আরও বলেন, “কিন্তু ছোট ছেলেমেয়েরা তো আর বুঝে না, তারা সারাদিন দেখেছে বাসার আশেপাশে গরু জবাই হয়েছে! বাচ্চারা কিছু বলে না, কিন্তু মন ছোট করে আছে! তাই তাদের বুঝ দেওয়া জন্য এখান থেকে কিছুটা কম দামে ৫ কেজি মাংস নিয়েছি।”

About

Popular Links