Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাছে লেগে থাকা মাটির সূত্র ধরে জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন

শুরুতে ক্লুলেস থাকলেও পরে ঘরের পাশের একটি সুপারি গাছে লেগে থাকা মাটি থেকে হত্যার মোটিভ ও সন্দেহভাজন খুনিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পিবিআই

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২২, ০৯:১৭ পিএম

গত ২ জুলাই রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন গোবিন্দি এলাকার নিজ বাসায় খুন হন রাজিয়া সুলতানা কাকলি ও তার শিশুসন্তান তালহা। শুরুতে ক্লুলেস থাকলেও পরে ঘরের পাশের একটি সুপারি গাছে লেগে থাকা মাটি থেকে হত্যার মোটিভ ও সন্দেহভাজন খুনিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশের তদন্ত সংস্থা ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

সোমবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি জানান, স্থানীয় এক যুবক আইপিএলে জুয়ার বাজি ধরতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঋণের টাকা পরিশোধে তিনি কাকলির কাছে ধার চেয়ে পাননি। পরে তার স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে এই খুন করেন।

ওই যুবকের নাম সাদিকুর সাদি। গত শনিবার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার হত্যায় নিজের দায় স্বীকার করে সাদি আদালতকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও জানান বনজ কুমার।

তিনি বলেন, ‘এলাকায় সাদি সহজ সরল ছেলে হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু আইপিএল খেলায় জুয়া খেলে নিজের সব টাকা খুইয়ে আরও ৭০ হাজার টাকা ঋণী হয়ে পড়েন।’

সাদির পাশের বাড়িতে বাস করতেন কাকলি ও তার সন্তান। ঋণ শোধ করতে কাকলির কাছে ১০ হাজার টাকা ধার চান সাদি। ২ জুলাই রাতে কাকলির ঘরের দরজায় নক করে দরজা খুলতে বলেন তিনি।

ভেতরে গিয়ে সাদি দেখতে পান, কাকলী তার ছেলে তালহাকে ভাত খাওয়াচ্ছেন। খাওয়া শেষে শিশুটি ঘুমিয়ে যায়। এরপর সাদি কাকলির কাছে ১০ হাজার টাকা ধার চান। একপর্যায়ে কাকলির পায়ে ধরে অনুরোধ করেন।

এরপর আলমারি খুলে কাকলি দেখান, তার কাছে দেয়ার মতো কোনো টাকা নেই। এ সময় সাদির চোখ পড়ে স্বর্ণালংকারে। তখন ওড়না দিয়ে কাকলির গলা প্যাঁচিয়ে ধরলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর ইস্ত্রি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পরে বটি দিয়ে গলা কেটে কাকলিকে খুন করেন সাদি।

সাদি ভাবে কাকলির ছেলেও হয়তো তাকে দেখে চিনে ফেলেছে। তাই ঘুমিয়ে থাকা শিশুটিকেও গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে জানানো হয় পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনে।

এরপর কাকলির আলমারি থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান সাদি, পরে সেগুলো উদ্ধার করে পিবিআই।

শুরুতে এই হত্যার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। একপর্যায়ে কাকলির ঘরের পাশে একটি সুপারি গাছে লেগে থাকা মাটি তদন্তে নতুন মোড় নেয়।

পিবিআই প্রধান বলেন, ‘দেখে মনে হয় গাছটি কেউ বেয়ে উঠেছে। কিন্তু গাছে সুপারি নেই। আবার গাছ বেয়ে কাকলির ঘরে প্রবেশের কোনো সুযোগও নেই। তবে গাছে উঠে ভেন্টিলেটর দিয়ে কাকলির ঘরের ভেতরটা দেখা যায়।’

হত্যার সময় গাছ বেয়ে কেউ উঠেছে- এমন ধারণা থেকে তদন্ত চালিয়ে যায় পিবিআই। একসময় জানা যায়, বাড়ির পেছনে ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ থাকায় কাকলির ভাসুরের ছেলে অজিদ কাজীসহ কয়েকজন তরুণ সেখানে বসে মোবাইল ফোনে গেম খেলে।

অজিদ কাজীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২ জুলাই রাতে তিনি ওই ঘরের পেছনে বসে অনলাইনে গেম খেলছিলেন। আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ কাকলির ছেলে তালহার চিৎকার শোনেন তারা।

এরপর অজিদ কৌতূহলবশত সুপারিগাছ বেয়ে ওপরে উঠে ভেন্টিলেটর দিয়ে সাদিকে দেখতে পান। তাকে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেও দেখেন তিনি।

সাদিকে দেখলেও কাকলি বা তালহাকে হত্যার ঘটনাটি দেখেননি অজিদ। সাদিকে এভাবে কাকলির ঘর থেকে বের হতে দেখে তার ধারণা হয় যে, দুইজনের মধ্যে কোনো সম্পর্ক চলছে। গত শনিবার ঈদের আগের দিন নিজ বাসা থেকে সাদিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি পুরো ঘটনা খুলে বলেন পিবিআইকে।

About

Popular Links