Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মৃত্যুর পর মাজারের খাদেম বিশা পাগলার ‘গোপন কক্ষে’ কোটি টাকার-স্বর্ণ

বিশা পাগলার মৃত্যুর পাঁচ দিন পর গোপন কক্ষ থেকে দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ছয় ভরি স্বর্ণ ও এক হাজার ১০০ দেরহাম বিদেশী মুদ্রা উদ্ধার করেছে পুলিশ

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২২, ০৮:২৩ পিএম

বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন মোহাম্মদ আমির হোসেন ওরফে বিশা পাগলা নামে এক মাজারের খাদেম। স্থানীয়ভাবে পরিচিতি থাকলেও দেশজোড়া নাম-যশ তার ছিল না। কিন্তু মৃত্যুর পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার (১২ জুলাই) তাকে ঘিরে শুরু হয় আলোচনা। কারণ, বিশা পাগলার ঘরের গোপন কক্ষ থেকে দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ছয় ভরি স্বর্ণ ও এক হাজার ১০০ দিরহাম বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিশা পাগলার বাড়ি উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বড় গাজীপুর গ্রামে। গত ৪০ বছর ধরে গ্রামের গাজীপুর মাজারের পাশে একটি বাড়িতে থাকতেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অবিবাহিত। এক ভাগনিকে দত্তক নিয়েছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই মৃত্যু হয় বিশা পাগলার। মঙ্গলবার তার গোপন কক্ষে থাকা আলমারি ও ওয়ারড্রব খোলা হলে মেলে বিপুল পরিমাণ টাকা। ওই আলমারিতে থাকা টাকার বান্ডেলগুলোতে সবচেয়ে বেশি আছে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। প্রত্যেক বান্ডেলেই টাকার পরিমাণ এক লাখ টাকা। স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন বিশার দত্তক মেয়ে। পরে পুলিশ ওইদিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত বাড়ি ঘিরে রাখে। বুধবার দুপুরে বিশা পাগলার পাঁচ ওয়ারিসের হাতে এ টাকা তুলে দেওয়া হয়।

আফরোজা নামের স্থানীয় এক নারীর ভাষ্য, “অসুস্থ হলেও বিশা কখনো চিকিৎসকের কাছে যেতেন না। নিজে কিছু কিনে খেতেন না। কোথাও গাড়িতে চড়ে যেতেন না। এভাবেই তিনি টাকাগুলো জমিয়েছেন। এই মাজারের ভক্তরা তাকে স্বর্ণালঙ্কার বিদেশি মুদ্রা ও নগদ টাকা দিয়ে যেতেন। এছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণ করতেন। তখন তার ভক্তরা তাকে টাকা পয়সা দিতে সেগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরে জমা করতেন।”

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “তিনি (বিশা পাগলা) গাজীপুর মাজারের পাশের থাকতেন। তার এই টাকা মূলত এই মাজারে ঘুরতে আসা ভক্তরা দিয়েছে। তার ঘরে তিনি জীবিত অবস্থায় কাউকে ঢুকতে দেননি। তাই কেউ দেখেনি। মারা যাওয়ার পর তার ওয়ারিশরা এই টাকা দেখে আমাদের জানালে থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়ে টাকাগুলো উদ্ধার করে তার পাঁচ আত্মীয়ের নামে খোলা ব্র্যাক ব্যাংকের একটি নতুন অ্যাকাউন্টে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম মোর্শেদ বলেন, আমরা এর আইনি দিকগুলো দেখছি। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About

Popular Links