Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মিলের বর্জ্যে দূষিত চন্দনা-বারাশিয়া: মালিকের দাবি, ওই পানি খাওয়াও যায়

বিকাশ এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী দাবি করেন, রাইসমিলে কোনো বর্জ্য নেই। তিনি নিজে পাইপ দিয়ে পড়া পানি খেয়ে দেখেছেন। এ পানি খেলেও কিছু হয় না

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২২, ০১:০৪ পিএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিকাশ এগ্রো ফুড রাইস মিলের বর্জ্যতে দূষিত হচ্ছে চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি। চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মরে যাচ্ছে প্রাকৃতিক মাছ।

নদীটিকে বাঁচাতে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বোয়ালমারী পৌর এলাকায় সকাল ১১টার দিকে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। এতে প্রায় হাজারের কাছাকাছি মানুষ অংশ নিয়েছেন।

পদ্মার শাখা নদী চন্দনা-বারাশিয়া রাজবাড়ীতে শুরু হয়ে ফরিদপুর জেলা হয়ে গোপালগঞ্জে গিয়ে মধুমতী নদীর মোহনায় মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ১২৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৪০ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার সোতাশী এলাকায় অবস্থিত বিকাশ এগ্রো ফুডের অটোরাইস মিল পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে আবাসিক এলাকায় স্থাপনের পর থেকেই ছাই ও ধোয়ার কারণে বায়ু দুষণ এবং ধান সিদ্ধ করা দুষিত পানি নদীতে ফেলায় পাশ্ববর্তী চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি দূষিত হচ্ছে।

লোকালয়ের এক কিলোমিটার বা এক হাজার ৯৮ গজের মধ্যে এ ধরনের মিল স্থাপন না করার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হয়নি। দ্রুত নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিকাশ এগ্রোর মালিক পক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদী পাড়ে অবস্থিত ময়না ইউনিয়নের ঠাকুরপুর বাজার সংলগ্ন সোতাশী এলাকায় একটি বড় পাইপ দিয়ে নদীতে পড়ছে ময়লা পানি। এটি বিকাশ এগ্রোর অটোরাইস মিলের পাইপ বলে জানা গেছে।

দৃশ্যমান এ পাইপের নিচের দিকে আরো ২টি পাইপ আছে বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পলাশ সাহা। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “অটোরাইস মিলের যতো বর্জ্য এই পাইপ দিয়ে নদীতে পড়ছে আর দূষিত হচ্ছে নদীর পানি।”

ঠাকুরপুর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাচ্চু খান অভিযোগ করে বলেন, অটোরাইস মিলের পঁচা পানি পড়ে নদীর পানি নষ্ট হয়ে নদীর মাছ মরে গেছে। নদীতে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পঁচা পানির কারণে নদীতে মাছ ধরতে নামতেও পারছেন না মৎস্যজীবীরা।

ঠাকুরপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সাগর ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “রাইস মিলের বর্জ্যর কারণে নদীর পানি পঁচে গেছে। পঁচা পানির গন্ধে বাজারে টিকা যায় না। মসজিদে নামাজ-কালাম পড়তেও সমস্যা হয়।”

নদী বাঁচাতে মানববন্ধনে অংশ নেন হাজার মানুষ/ ঢাকা ট্রিবিউন

ময়না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির মো. সেলিম বলেন, “নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ নদীতে গোসল করতো, বিভিন্ন কাজে পানি ব্যবহার করতো, গরু বাছুর গোসল করাতো। কিন্তু বিকাশ এগ্রো ফুডের বর্জ্যর কারণে পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কোনো কাজে আসছে না নদীর পানি। চরম বিপাকে আর ভোগান্তিতে আছে নদী পাড়ের মানুষ।” এ ব্যাপারে তিনি কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

নদী এলাকায় সেচ সুবিধার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎস্যমুখে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি, সুপেয় পানির আধার তৈরিসহ এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নকল্পে ২০১০-১১ অর্থ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রহমানের আমলে চন্দনা-বারাশিয় নদী খনন শুরু করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

কিন্তু দখল-দূষণে এখন নদীর অবস্থা করুণ। বিশেষ করে বর্জ্যের কারণে পানি পঁচে যাওয়ায় কোনো কাজে আসছে না চন্দনা-বারাশিয়ার পানি।

বিকাশ এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী বিকাশ সাহা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রাইসমিলে কোনো ময়লা, পঁচা পানি হয় না। এমনকি রাইসমিলে কোনো বর্জ্য নেই। তিনি নিজে পাইপ দিয়ে পড়া পানি খেয়ে দেখেছেন বলে জানান।

তিনি দাবি করেন, এ পানি খেলেও কিছু হয় না। বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে পানি দূষিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। 

বিকাশ সাহা বলেন, কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে হাজার হাজার মিল চলছে। সেসব মিল নদীতে পানি ফেলছে। সেখানে কিছু হচ্ছে না। যত সমস্যা এখানে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়ে এবং সকল বিধিমোতাবেক মিল করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

যদিও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। তবে ছাড়পত্রের জন্য টাকা জমা দিয়েছেন এবং টাকা জমাদানের চালান দেখান তিনি।

ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমএইচ রাশেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, এর আগে কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম বলেন, “ময়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

About

Popular Links