Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর সাঈদ দেশে ফিরে হতে চেয়েছিলেন ‘মাদক বিজ্ঞানী’!

সাঈদ জানান, নতুন বিভিন্ন মাদকের প্রতি আগ্রহের কারণে তিনি এ নিয়ে অধ্যয়ন-গবেষণা শুরু করেন। ভবিষ্যতে উন্নত দেশে সরবরাহের জন্য কুশ প্ল্যান্টের ফার্মও তৈরি করেছেন

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ০৬:১১ পিএম

দেশে একটি ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিবিএ ও এমবিএ করেন ওনাইসি সাঈদ (৩৮)। পড়াশোনা শেষে ২০১৪ সালে দেশে ফিরে তিনি বাবার টেক্সটাইল ব্যবসার দেখভাল শুরু করেন। এর মধ্যে এক কানাডা প্রবাসীর জোগসাজশে জড়িয়ে পড়েন মাদক কারবারে। পরে তার ইচ্ছে হয়, তিনি “মাদক বিজ্ঞানী” হবেন। এ নিয়ে সাঈদ অধ্যয়ন এবং গবেষণা শুরু করেন।

সোমবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের এক বাসায় অভিযান চালিয়ে এক্সট্যাসি, কুশ, হেম্প, মলি, এডারল, ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন মাদকসহ সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দেশে অপ্রচলিত মাদক এক্সট্যাসির একটি “নেটওয়ার্ক” সম্পর্কে জানতে পারে। এর ভিত্তিতে গুলশানে সাঈদের বাসায় অভিযান চালিয়ে এক্সট্যাসি, কুশ, হেম্প, মলি, এডারল, ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন মাদকসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৩ কোটি টাকা সমমূল্যের দেশি-বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।

ওই বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে ১০১ গ্রাম কুশ, ৬ গ্রাম হেম্প, ০.৫ গ্রাম মলি, ১ গ্রাম ফেন্টানল, ১৮ গ্রাম কোকেন, ১২৩টি এক্সট্যাসি, ২৮টি এডারল ট্যাবলেট রয়েছে। এর মধ্যে কুশ ও হেম্প দুটোই গাঁজার দুটো ধরন। আবার এক্সট্যাসি ও মলি মেথামফিটামিন মাদকের দুটি ধরন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, “সাঈদকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে তাপনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ‘গ্রো-টেন্ট’র মাধ্যমে বিদেশি জাতের কুশ তৈরির সেটআপ উদ্ধার করা হয়।”

মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সাঈদ র‌্যাবকে জানিয়েছেন, গত চার বছর ধরে কানাডায় অবস্থানরত ফয়সাল নামে এক বাংলাদেশির মাধ্যমে তিনি মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন।

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, “বাংলাদেশে নতুন মাদক এক্সট্যাসির কারবারের অন্যতম হোতা ওনাইসী সাঈদ। দেশে বেশ কয়েকজন তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এসব মাদক সাঈদ পার্সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করেন। মাঝে মধ্যে নিজেও বিদেশে গমন করে লাগেজে করে মাদক দেশে নিয়ে আসেন। সাঈদ পার্সেলে মাদক আনার ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবের নামে নিয়ে আসতেন। হুন্ডির মাধ্যমে মাদকের অর্থ পরিশোধ করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।”

এসব মাদকের ক্রেতা কারা- এমন প্রশ্নে মঈন বলেন, “অধিকাংশ ধনাঢ্য পরিবারের সদস্য। এছাড়া অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন পার্টিতে চাহিদার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়।”

সাঈদকে জিজ্ঞাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, “সাঈদ জানান, নতুন বিভিন্ন মাদকের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির ফলে তিনি এ নিয়ে অধ্যয়ন এবং গবেষণা শুরু করেন। ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নত দেশে সরবরাহ করার জন্য তিনি কুশ প্ল্যান্টের ফার্ম তৈরি করেন। টেস্ট অ্যান্ড ট্রায়াল হিসেবে সাঈদ সাত মাস ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক ফ্ল্যাটের ভেতর তাপ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ‘গ্রো-টেন্ট’র মাধ্যমে কুশ চাষ করেন। ইতোমধ্যে তিনি ওই ফার্ম থেকে একবার হারভেস্ট করে এবং পরে প্রসেস করে কুশ প্রস্তুত করেছেন, যা বাংলাদেশে বিক্রিও করেছেন।”

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, “সাঈদ অধ্যয়ন করে 'মাদক বিজ্ঞানী' হতে চেয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও মানি লন্ডারিং মামলা হবে।”

About

Popular Links