Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর দেশ নানা বিপর্যয়ে পড়েছিল’

লেখক ও ইতিহাসবিদ সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেশকে ধর্মনিরপেক্ষতায় পরিণত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু’

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ০৪:০০ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর দেশ নানা বিপর্যয়ে পড়েছিল বলে সেন্টার ফর রিসার্স অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) এক আলোচনায় সভায় বক্তারা উল্লেখ করেছেন।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সিআরআই”র ওই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি আদায়ে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, ধর্মনিরেপক্ষ সংবিধান প্রণয়ন এবং সেসময় জিয়াউর রহমানের নানা “ষড়যন্ত্রের” কথা তুলে ধরেন গবেষকরা।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামস রহমান বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই একটি সামরিক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ এবং কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ অগাস্টের খুনিদের পুনর্বাসন করা হয়।”

আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই”র আলোচনাসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সে সাউথ এশিয়ান ইতিহাসের গবেষক মালিহা আহমেদ এবং লেখক ও ইতিহাসবিদ সুদীপ চক্রবর্তী।

আলোচনায় মালিহা আহমেদ বলেন, “বড় বড় দেশগুলোর কাছ থেকে কূটনৈতিক উপায়ে বাংলাদেশের স্বীকৃতি এনেছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং সেই মর্যাদা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। সেসময় ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মতো বড় দেশগুলো তাদের স্বীকৃতি ধরে রেখেছিল।”

মালিহা বলেন, পাকিস্তান ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। এগুলো সবই বাংলাদেশের জাতিসংঘে প্রবেশের জন্য একটি বড় বাধা ছিল। সুতরাং, বঙ্গবন্ধু এটি নিয়ে কাজ করছিলেন এবং তিনি একটি সার্বভৌম দেশ হিসাবে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বীকৃতি অর্জনের জন্য দেশগুলোর মধ্যে অনেক বৈঠক করেছিলেন। পাকিস্তান তাদের যুদ্ধবন্দীদের বিনিময়ে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়েছে। পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পর চীন ভেটো প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। পাকিস্তানের স্বীকৃতি অন্যান্য দেশ থেকেও স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য একটি ডমিনো প্রভাব তৈরি করে।”

লেখক ও ইতিহাসবিদ সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, “একজন তরুণ তারকা থেকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের নেতা হয়েছিলেন এবং কাউন্টির দৃষ্টিভঙ্গিকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতায় পরিণত করেছিলেন। এখন বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ভালো ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা করছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও খুবই প্রশংসনীয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস খাত রয়েছে বাংলাদেশের।”

ওয়েবিনারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেন, “বঙ্গবন্ধু যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সিদ্ধান্ত ছিল, ভারত থেকে টেক্সটাইল সামগ্রী আমদানি করার। প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রতিক্রিয়া ছিল যে, ভারতের টেক্সটাইল সামগ্রী নিম্নমানের এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মও নিম্নমানের। ইউনিফর্মের জন্য টেক্সটাইল পাকিস্তানে অনেক উন্নত। তখন সামরিক সংস্থাগুলো কী ধরনের পাকিস্তানি প্রত্যাশা বা আকাঙ্ক্ষা গ্রহণ করেছিল পোশাকের এই ঘটনা সেই ইঙ্গিত দেয়।”

About

Popular Links