Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ১৮ বছর পর শেষের পথে মামলা

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এই মামলার রায় দেন

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ১০:১২ এএম

দেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনার ১৮ বছর পেরিয়েছে। মামলাটি বিচারিক আদালতে বিচার শেষে এখন হাইকোর্টে শুনানির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা, এই হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান তবে তিনি কানে আঘাত পান।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এই মামলার রায় দেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ মোট ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণা করা হলেও হাইকোর্টে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি এখনও বাকি রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, কোভিড -১৯ মহামারী চলাকালীন আদালত ও অফিস দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি দেরি হয়েছে।

রায়ের পর নিয়মানুসারে আসামিদের জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্স সম্বলিত প্রায় ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠার নথি ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে পৌঁছায়।

এরপর ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট মামলাটি শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুতের আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ১৩টি ভলিউমে মোট ৫৮৫টি পেপারবুক তৈরি করা হয়েছে। যার পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১০ হাজার। এসব পেপারবুকে ২২টি আপিল এবং ১২টি জেল আপিল রয়েছে।

পাশাপাশি একই ঘটনায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক মামলায় ১১টি ভলিউমে মোট ৪৯৫টি পেপারেবুক তৈরি হয়েছে। এগুলোর পৃষ্ঠা সংখ্যাও প্রায় ১০ হাজার। এসব পেপারবুকে ১৭টি আপিল এবং ১২টি জেল আপিল রয়েছে।

বর্তমানে পেপারবুক শুনানির জন্য বিজি প্রেস থেকে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে জমা পড়ে আছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, কাগজপত্র তৈরি হওয়ায় সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টের ছুটির পর মামলাগুলোর আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু করার জন্য আমরা হাইকোর্টে আবেদন করব।

তিনি বলেন, হাইকোর্টে মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য কত সময় লাগবে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না, তবে আমরা এই বছরের মধ্যে শুনানি শেষ করার জন্য আমাদের স্তরের যথাসাধ্য চেষ্টা করব।

হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তরা স্বাধীনভাবে মোট ২২টি আপিল দাখিল করেছেন ও কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্তরা ১২টি আপিল দায়ের করেছেন। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় স্বতন্ত্রভাবে ১৭টি ও কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১২টি আপিল করা হয়েছে। 

রায় ঘোষণার সময় বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতায় থাকা দলগুলোকে অবশ্যই বিরোধীদের প্রতি উদার নীতি প্রয়োগ করতে হবে।

বিচারক বলেন, বিরোধী দলের নেতাদের হত্যা করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের একটি ক্ষমতাসীন দলের প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে না।

এক পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, রাজনীতিতে, অনিবার্যভাবে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে অগণিত বিরোধ থাকবে। তবে বিরোধী দলের নেতাদের নির্মূল করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ মানুষ এই ধরনের রাজনীতি চায় না।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ জানান, গ্রেনেড হামলার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি থেকে মুছে ফেলা। এতে স্থানীয় জঙ্গিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।

হামলার দুটি মামলা ২২ আগস্ট, ২০০৪ এ দায়ের করা হয়েছিল। এর বিচার শুরু হয় ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৫২ জনের বিরুদ্ধে একটি সম্পূরক চার্জশিট জমা দেওয়ার পর ২০১২ সালের ৩ জুলাই নতুন করে বিচার শুরু হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন- শীর্ষ হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, শরীফ শাহেদুল বিপুল এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ অন্যান্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মোট ৩১ জন আসামি সরাসরি বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ ১৮ জনের অনুপস্থিতিতে বিচার হয়েছে।

About

Popular Links