Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পিবিআই: স্ত্রীকে হত্যায় খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল

বাবুল এক বিদেশী মহিলার সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে তোলে ও তাদের একটি সন্তান হয়, সে কারণেই বাবুল মিতুকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২, ০৯:৩০ পিএম

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার জন্য ৩ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেছিলেন চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বুধবার (২৪ আগস্ট) এ তথ্য জানায়।

পিবিআই-এর পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “বাবুল এক বিদেশী মহিলার সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে তোলে ও তাদের একটি সন্তান হয়। সে কারণেই বাবুল মিতুকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়”।

তদন্ত সংস্থা জানায়, কামরুল ইসলাম শিকদার মুসাসহ ছয়জন হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। হত্যার পর বাবুল মুসাকে আত্মগোপনে যেতে বলে।

পিবিআই পরিদর্শক জাফর আরও জানান, তারা চার্জশিট দাখিলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যা মামলায় বাবুলকে প্রধান আসামি করা হয়।

মামলার অন্য ছয় আসামি হলেন- কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতাশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়া মোঃ মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খায়রুল ইসলাম কালু ও শাহজাহান মিয়া।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, তদন্ত প্রায় শেষ ও চার্জশিট প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন হন মিতু। 

স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তভার পায় চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ওই বছরের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

২০২০ সালের জানুয়ারিতে এ মামলার তদন্তভার পড়ে পিবিআইয়ের ওপর। এরপর জট খুলতে থাকে চাঞ্চল্যকর এই মামলার।

২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। পরদিন (১২ মে) বাবুল আক্তারের মামলায় আদালতে ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। 

যাতে উল্লেখ করা হয়-তদন্তে ঘটনার সঙ্গে বাদী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা (নারাজি) আবেদন করেন বাবুল আক্তার।

গত বছরের ৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি আদালত হত্যা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন খারিজ করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

পিবিআই তদন্তে স্ত্রী হত্যায় বাবুলের সম্পৃক্ততা পায়।

About

Popular Links